Home > খেলা > বিশ্বকাপ ‘পাতানো’!

বিশ্বকাপ ‘পাতানো’!

আইসিসি, আকসু এবং একই সঙ্গে স্বাগতিকদের স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সব কঠোর তৎপরতা কি তবে মাঠে মারা গেল! আইসিসি আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে, ম্যাচ ফিক্সিং কিংবা স্পট ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে তারা। কিন্তু সম্প্রতি বার্তা আদান-প্রদানের জনপ্রিয় মাধ্যম ‘হোয়াটসঅ্যাপ’-এ ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তার সূত্র দাবি করছে, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই নাকি পাতানো!

বিশ্বকাপের কোন ম্যাচের কী কী ফল হতে পারে, তার আগাম একটি তালিকা হোয়াটসঅ্যাপের সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঝড়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের যে নয়টি ম্যাচ হয়েছে, তার প্রত্যেকটির ফল মিলে গেছে সেই আগাম বার্তাটির সঙ্গে!
বিশ্বকাপের মতো বড় আসর তো বটেই, ছোটখাটো টুর্নামেন্টের খেলা নিয়েও অনুমান নির্ভর আলোচনা হয়েই থাকে। সাধারণ দর্শক-সমর্থকদের প্রত্যাশা, বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় ওঠা তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তবে, ম্যাচ পাতানো হয়েছে, এমন দাবি করা কোনো বার্তার প্রতিটি ফলই যখন মিলে যেতে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তো উঁকি দেবেই।
সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের হলো, আয়ারল্যান্ড যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেবে, সেটিও লেখা আছে স্ক্রিনশটে পাওয়া যাওয়া সেই বার্তাটায়। ভারতের পাকিস্তান-বধ, কিউইদের কাছে ইংলিশদের পরাজয়—সবই ছিল সেই বার্তাটিতে। তবে কে বা কারা এই বার্তাটি ছড়িয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।
প্রশ্ন এসেই পড়ে, ব্যাপারটি কি নেহায়েতই কাকতালীয়? নাকি সত্যিই বাজিকরদের কালো থাবা আক্রান্ত করা শুরু করেছে বিশ্বকাপকে? সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমন প্রশ্ন তুলতে শুরু করে মূল ধারার কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমও। তবে শুধু একটা বার্তার স্ক্রিনশটের ওপর ভিত্তি করে পুরো বিশ্বকাপ পাতানো হয়েছে—এমন গুরুতর দাবি করা হয়তো বাড়াবাড়িই হয়ে যাবে।
তার চেয়ে বরং চোখ রাখা যাক পরবর্তী ম্যাচগুলোর ব্যাপারে সেই ভবিষ্যদ্বাণী কতটা মেলে, তার ওপর।

কী বলছে সেই বার্তা?
রাতারাতি অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়া সেই বার্তাটি থেকে জানা যাচ্ছে যে এবারের বিশ্বকাপে ট্রফির দখল নেবে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানার্সআপ হতে যাচ্ছে অন্যতম স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। অন্যদের মধ্যে গ্রুপ রাউন্ডের দেয়াল টপকাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, অপর স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে। মাত্র দুটি জয় নিয়ে গ্রুপপর্ব থেকেই ফেরত আসবে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশ হারাবে স্কটল্যান্ডকে। তবে পাতানো হোক আর যা-ই হোক, আফ্রিকানরা নিশ্চয় এবার মনেপ্রাণে প্রার্থনা করবে এই ভবিষ্যদ্বাণী যেন মিলে যায়। ‘চোকার’ উপাধিটা এবার তাহলে ঘুচল বলে! তথ্যসূত্র: জি নিউজ