পেন্টাগন কোথায় অবস্থিত? চলুন দেখে আসি ভেতরের রহস্য

সুরক্ষার চাদরে মোড়া পেন্টাগন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ট।

সুরক্ষার চাদরে মোড়া পেন্টাগন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ট। বিশ্বের অন্যতম সামরিক শক্তিধর দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর। দেশটির সব প্রতিরক্ষাবিষয়ক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ প্রায় সব নেতৃত্বস্থানীয় কর্তাব্যক্তির অফিস এটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিস ভবন।

এখান থেকেই পুরো বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সামরিক মাস্টারপ্ল্যান সাজানো হয়। অত্যন্ত গোপন ও স্পর্শকাতর সামরিক বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিভিন্ন যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নিরাপত্তা কার্যালয়টিও পেন্টাগনে। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণের অকল্পনীয়।

লেখাটিতে যা আছে.... লুকিয়ে রাখুন

পেন্টাগন কোথায় অবস্থিত?

পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জেনিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনের ৪৮ এন রোটারি রোডে অবস্থিত। এর চিঠি লেখার ঠিকানা- ওয়াশিংটন, ডিসি ২০৩০১।

পেন্টাগনের নামকরণ

পেন্টাগন শব্দটি গ্রিক অক্ষর ‘৫’ অর্থাৎ ‘pente’ থেকে উৎসারিত, যার অর্থ পাঁচ কোণ বা দিকবিশিষ্ট। পেন্টা শব্দের অর্থ পাঁচ (৫) আর “গন” মানে হলো ভুজ। মানে পুরো অর্থ দাঁড়ায় পঞ্চভুজ।

পেন্টাগন ভবনটির আকৃতি পঞ্চভুজাকৃতির। পেন্টাগনের গঠন পঞ্চভুজাকৃতির বলে এমন নাম রাখা হয়েছে। পাঁচটি কোণা থাকায় কার্যালয়টির নাম পেন্টাগন।

পেন্টাগনে কী আছে?

পুরো পেন্টাগন কমপ্লেক্সটি ৫৮৩ একর জায়গার ওপর অবস্থিত। ভবনটির উচ্চতা ২৪ মিটার। পেন্টাগনে রয়েছে মোট সিঁড়িপথ ১৩১টি, এস্কেলেটর ১৯টি, এলিভেটর ১৩টি, বিশ্রাম কক্ষ ২৮৪টি, ২৮৪টি বাথরুম এবং জানালা রয়েছে ৭৭৫৪টি। পেন্টাগনে মধ্যবর্তী চত্বরে রয়েছে পাঁচ একর জমি। পেন্টাগনের মধ্যবর্তী ২০ হাজার বর্গমিটারের চত্বর পৃথিবীর বৃহত্তম দরজার বাইরে।

পেন্টাগনের মধ্যে ৬৭ একর আয়তনের ১৬টি পার্কিং লট রয়েছে। যেখানে প্রতি কর্মদিবসে প্রায় আট হাজার ৭৭০টি গাড়ি পার্ক করা হয়। পার্কিং লটে আসতে গাড়িগুলোকে ২০০ একর আয়তনবিশিষ্ট উদ্যান এলাকা অতিক্রম করতে হয়।

৬৫ লাখ বর্গফুট আয়তনের মূল ভবন পাঁচতলাবিশিষ্ট হলেও বেসমেন্টে অর্থাৎ ভূগর্ভে আরো দু’টি তলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ লাখ পাঁচ হাজার ৭৯৩ বর্গফুট এলাকা অফিসের কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে চার হাজার ২০০টি ঘড়ি লাগানো আছে।

পেন্টাগনে আছে একটি ডাইনিং রুম, দু’টি ক্যাফেটেরিয়া, ছয়টি স্ন্যাকবার এবং একটি আউটডোর স্ন্যাকবার এবং প্রতি কর্মদিবসে ২৩০ জন কর্মী সেখানকার কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের জন্য খাবার পরিবেশন করেন।

নিরাপত্তায় পেন্টাগন ফোর্স প্রটেকশন এজেন্সি
নিরাপত্তায় পেন্টাগন ফোর্স প্রটেকশন এজেন্সি

পেন্টাগনের গ্রাউন্ড জিরো

পেন্টাগনের মধ্যবর্তী খোলা চত্বর অনানুষ্ঠানিকভাবে গ্রাউন্ড জিরো নামে পরিচিত। কোল্ড ওয়ারের সময় এই ডাকনাম সৃষ্টি হয়েছিল। তখন গ্রাউন্ড জিরো ছিল নিউক্লিয়ার মিসাইলের নিশানা। এখনো এই চত্বরের গ্রাউন্ড জিরো ক্যাফে নামে একটি স্নাক্স বার আছে।

এ জিরো গ্রাউন্ড পেন্টাগনের বুকের মধ্যমণি। স্নায়ুযুদ্ধের সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন পারমাণবিক হামলার জন্য এ কেন্দ্রবিন্দুটিকেই বেছে নিয়েছিল। গ্রাউন্ড জিরোতে বোমা ফেলা মানে গোটা যুক্তরাষ্ট্রকে জ্বালিয়ে দেওয়া। পুরো পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন ঠেকিয়ে দেয়া ।

পেন্টাগন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

স্থাপনা হিসেবে পেন্টাগনের যতটা গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব এখানে উপস্থিত কর্তাব্যক্তিদের জন্য। প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের সদর দফতরেই কাজ করেন ২৩ হাজার সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সব কিছুর পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত। এর অতিরিক্ত আরো তিন হাজার সহায়ক জনশক্তি এখানে কর্মরত।

পেন্টাগনে বিধিনিষেধ

পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ অফিসকক্ষে যেতে পারেন নির্দিষ্ট কর্মকর্তারাই। অনুমতি ছাড়া আর কেউ যেতে পারেন না। পেন্টাগনে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ বললেই চলে।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আমেরিকার প্রধান প্রতিরক্ষা কার্যালয় পেন্টাগনে থাকায় এটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্ছিদ্র। বিশাল কর্মযজ্ঞের স্থান পেন্টাগন। রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য ও সিদ্ধান্ত এখানে সংরক্ষিত আছে। সেখানে প্রবেশে রয়েছে অনেকগুলো রাস্তা।

নিরাপত্তায় পেন্টাগন ফোর্স প্রটেকশন এজেন্সি

পেন্টাগনের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পেন্টাগন ফোর্স প্রটেকশন এজেন্সির ওপর, যা ফেডারেল পুলিশ অফিসার, পেন্টাগন পুলিশ, বেসামরিক সিবিআরএন টেকনিশিয়ান, সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত ও নিরাপত্তা দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত। এই এজেন্সি গঠন করা হয়েছে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে হামলার পর।

ছবি তোলায় কড়াকড়ি

পেন্টাগনের ভিতরে ছবি তোলা ও ভিডিও করা সম্পূর্ণ নিষেধ। কেউ যদি ছবি বা ভিডিও করতে চায় তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়। পেন্টাগনের ভিতরের ছবি তাই অনেকেই দেখতে পারেন না। শুধু সেমিনার হল এবং বিভিন্ন প্রেসের কর্মকাণ্ডের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থেকেই এর কাজ চালানো হয়।

পেন্টাগনের ভিতরে এটিই একমাত্র জায়গা যেখানে ছবি তোলার অনুমতি রয়েছে
পেন্টাগনের ভিতরে এটিই একমাত্র জায়গা যেখানে ছবি তোলার অনুমতি রয়েছে। ছবি : রন ম্যাকথার

পেন্টাগনে গোপনীয় কর্মকাণ্ড

পেন্টাগন থেকেই প্রতিরক্ষা বিষয়ক বাহিনীগুলোর সমন্বয় এবং বিভিন্ন গোপন সংস্থার কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এগুলো গোপনীয় বিষয় ও সিদ্ধান্ত। পেন্টাগনের এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো সম্বন্ধে বাইরের পৃথিবীকে মোটেও জানানো হয় না।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি এবং ইউএস আর্মড ফোর্স সরাসরি পেন্টাগন থেকেই সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয়। পেন্টাগনে অসংখ্য অফিস রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাদের সংখ্যা ২.১৩ মিলিয়ন।

এর মধ্যে রয়েছে সৈনিক, নাবিক, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনীতে কর্মরত বিভিন্ন কর্মকর্তা। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর পাশাপাশি মেরিন রিজার্ভ হিসেবেও রয়েছে অনেকে। এদের সবার অফিস এই পেন্টাগনে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আরও কিছু গোপন সংস্থা অফিসও রয়েছে পেন্টাগনে। এদের মধ্যে ডিফেন্স ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি, ডিফেন্স অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি, ডিফেন্স লজিস্ট্রিক এজেন্সি, মিসাইল ডিফেন্স এজেন্সি, পেন্টাগন ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সি ছাড়াও আরও অনেক সংস্থা রয়েছে।

পেন্টাগনে গোপন সুড়ঙ্গ

পেন্টাগনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন। আপদকালীন পেন্টাগন থেকে শহরের অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য মাটির নিচে সুড়ঙ্গ রয়েছে। এসব সুড়ঙ্গ দিয়ে আমেরিকার মূল শহরের যে কোনো জায়গায় চলে যাওয়া যায় সহজেই। কিন্তু এই সড়কগুলো শুধু পেন্টাগনের নিজস্ব গোপন বিষয়। এসব সড়কে সাধারণ মানুষ চলাচল করা দূরে থাক, ঠিকানা পর্যন্ত জানে না অনেকে।

পেন্টাগন থেকে বের হওয়ার জন্য টানেলগুলোর শুরুর দরজা চেনার উপায় নেই। কিছু কিছু টানেলের দরজা রয়েছে নেতৃত্বস্থানীয় কর্তাদের টেবিলের নিচ দিয়ে কিছু টানেলের দরজা রয়েছে দেয়ালের পেছনে লুকানো। হোয়াইট হাউসের টানেল যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি মানচিত্র থেকে জানা যায়, পেন্টাগনের সঙ্গে কীভাবে যোগ আছে পুরো শহর।

ইচ্ছে করলেই যে কেউ পেন্টাগন থেকে সিআইএর সদর দফতর, হোয়াইট হাউস, এফবিআই সদর দফতর, নাসার সদর দফতরে যাওয়া সম্ভব। এসব গোপন সুড়ঙ্গ শুধু আপদকালীন সময়েই ব্যবহার করা হয়। এই গোপন সুড়ঙ্গগুলো সব সময়ই আইনশৃঙ্খলা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বিতর্কিত ব্ল্যাক বাজেট

পেন্টাগনের ব্ল্যাক বাজেট নিয়ে বহু সমালোচনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলেন, পেন্টাগনের ব্ল্যাক বাজেটের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই খরচ হয় আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও বিভিন্ন গোপন মিশনের জন্য।

আমেরিকার অর্থনীতির সিংহ ভাগ গোপনে খরচ করার জন্য ব্ল্যাক বাজেট সবচেয়ে বড় খাত। বাজেটের আরেকটি অংশ ব্যয় হয় গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য। এই কার্যক্রম আমেরিকার ভিতরেই নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও কাজে লাগানো হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্পেশাল অভিযানের জন্য রাখা হয় বাজেটের একটি অংশ। সুপার সিক্রেট ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি নামে একটি প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয় এই বাজেট দিয়েই। নাসাকে দিয়ে পরিচালিত মানুষের অজানা বিভিন্ন উপগ্রহ তৈরি উৎক্ষপণের কাজেও ব্ল্যাক বাজেট রয়েছে।

এসবই পেন্টাগনের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে। পেন্টাগনের ভিতরেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই সরাসরি এসব পরিকল্পনা করেন এবং বাস্তবায়ন করেন। বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র উন্নয়ন এবং নতুন নতুন মিসাইল আবিষ্কারের জন্যও পেন্টাগনে বসে খরচের খাত। আর এ খরচটির পুরোটাই জোগান দেয় ব্ল্যাক বাজেট। এ বাজেট কীভাবে ছাড় পায় সেটা জানে না কেউই। অনির্ধারিত খাত হিসেবে আরও কত খরচ হয় সেটা একমাত্র পেন্টাগনই জানে। পেন্টাগনের এ বাজেট তৈরি করতে কোনো সমস্যাই হয় না।

১১ ই সেপ্টেম্বরের মারাত্মক হামলার পর পেন্টাগনের একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়
১১ ই সেপ্টেম্বরের মারাত্মক হামলার পর পেন্টাগনের একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়

পেন্টাগনে বিমান হামলা

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পর ৯/১১ হামলায় আক্রান্ত হয়েছিল পেন্টাগন। আমেরিকান এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট ৭৭ সরাসরি আঘাত করে পেন্টাগনে। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যায় এ ফ্লাইটটি। এর ভিতরে ৬ জন ক্রু ছাড়াও ৫৩ জন যাত্রী ছিলেন।

এ বিমানটিতে ছিল পাঁচজন ছিনতাইকারী। তারা বিমানটি ছিনতাই করার পর জোরপূর্বক পেন্টাগনের দিকে নিয়ে চলে। সকাল ৯:৩৭ মিনিটে পেন্টাগনে বিমানটি আঘাত করার পরপরই আগুন লেগে যায়। বিমানটি আছড়ে পরলে সবাই নিহত হন।

এ হামলার দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করা সম্ভব হয়েছিল। একটি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ৮৬ সেকেন্ডের সেই ফুটেজে বিমান ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে কীভাবে পেন্টাগনে আঘাত হানে সেটা পুরো বিশ্ব দেখেছে। ভিডিও ফুটেজে এই দৃশ্য থেকে হতবাক হয়ে পড়ে বিশ্ববাসী।

আঘাত করার পরপরই পেন্টাগনে আগুন লেগে যায়। বিমানের ফুয়েল ট্যাংক এখানেই ভেঙে পড়ায় অতি উচ্চতাপমাত্রায় আগুন জ্বলতে থাকে। এ আগুনের ধোঁয়া মাইলের পর মাইল দূর থেকে দেখা গিয়েছিল। ভবনের দক্ষিণ দিকে আঘাত করার পরপরই সেখানে ছুটে যায় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা।

কিছুক্ষণের মধ্যেই পেন্টাগনের একাংশ ধসে পড়ে। এর ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। বিমানটি পেন্টাগনে একটি ব্লক ধসিয়ে দেওয়ার আগে রাস্তার ল্যাম্প পোস্টের গায়ে বাড়ি খায়। এর ফলে  বিমানের একটি ডানা ডানদিকে বেঁকে গিয়ে পেন্টাগনে আঘাত হানে। পেন্টাগনে বিমানটি আঘাত করার পর ফার্স্ট ফ্লোর লেভেলটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

পেন্টাগনের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। খুব নিখুঁত পরিকল্পনা মোতাবেক পেন্টাগনে হামলা হয়েছে। পেন্টাগনের যে অংশে বিমান হামলা হয় সেখানে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছিল। তাই সে অফিসে ৪ হাজার ৫০০ কর্মীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৮০০ জন এসেছিলেন। ফলে যারা উপস্থিত হননি তারা আগে থেকেই হামলার থবর জানতেন বলে বিতর্ক ওঠে। তবে বিষয়টি মীমাংসিত নয়।

পেন্টাগন মেমোরিয়াল

বর্তমানে পেন্টাগনে হামলায় নিহতের স্মরণে সেখানে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ‘পেন্টাগন মেমোরিয়াল’।পুনর্নির্মিত স্থানে ভবনের অভ্যন্তরভাগে নিহতদের স্মৃতিতে একটি ফলক স্থাপন করা হয়। তা ছাড়া প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর প্রত্যেক নিহতের স্মরণে একটি করে বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ওই দিন পেন্টাগনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে একটি আমেরিকান পতাকা ঝুলিয়ে দেয়া হয় এবং রাতে নীল বাতি দিয়ে সাজানো হয়। হামলার ঘটনার পর পেন্টাগনের বাইরে দুই একর জায়গাজুড়ে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়, যার মধ্যে আছে প্রত্যেক নিহতের স্মরণে একটি করে বেঞ্চ স্থাপন। এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর।

সামরিক কর্মকাণ্ডের কমান্ড সেন্টার

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের কমান্ড সেন্টার পেন্টাগন। গোপনীয়তায় অনন্য পেন্টাগনেই রয়েছে ওয়ার রুম।  সামরিক আধিপত্য বিস্তারের নানা কলাকৌশল, সিদ্ধান্ত ও মাস্টারপ্ল্যান এখানে বসেই সাজায় যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার কমান্ড সেন্টার পেন্টাগন তাই সুরক্ষিত ও গোপনীয়।

পেন্টাগনে নানা নিয়ম-নীতি

ইউএস সামরিক ব্যক্তিবর্গ উপরস্থ কর্মকর্তাকে অভিবাদন এবং অবশ্যই টুপি পরিধান করবেন। পেন্টাগনের ভিতরের ছবি তাই অনেকেই দেখতে পারেন না। শুধু সেমিনার হল এবং বিভিন্ন প্রেসের কর্মকাণ্ডের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থেকেই এর কাজ চালানো হয়।

পেন্টাগন নিয়ে আছে নানা জল্পনা-কল্পনা, লেখা হয়েছেউপন্যাস
পেন্টাগন নিয়ে আছে নানা জল্পনা-কল্পনা, লেখা হয়েছে উপন্যাসও

পেন্টাগন নিয়ে জল্পনা কল্পনা

হলিউডের সিনেমায় দেখানো পরমাণু মিসাইল ছোড়ার সেন্টার কি পেন্টাগনেই? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কি এখানে বসেই সিদ্ধান্ত নেন কোথায় হামলা করবেন? পৃথিবীর কঠিন বিপদে এটাই সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান?

এমন নানা প্রশ্ন, নানা মিথে ঘেরা এ পেন্টাগন। পেন্টাগন নিয়ে খুব বেশি জানানোর কিছু নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই গোপনীয়তার দুর্ভেদ্য প্রাচীর দিয়ে পেন্টাগনের ভিতরের কাজকারবার  ঢেকে রেখেছে। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলোর সম্বন্ধে বাইরের পৃথিবীকে মোটেও জানানো হয় না।

ভার্চুয়াল জগতে নজরদারি

গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদারে ইন্টারনেটের ওপর নজরদারিতে সরব পেন্টাগন। বিভিন্ন গোপন গোয়েন্দা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে দাবি করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। পেন্টাগন থেকে ইন্টারনেটের ওপর নজরদারির বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হিসেবে ধরা হয়।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ই-মেইল হাতিয়ে নেওয়া ছাড়াও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ জনসমক্ষে ফাঁস করে দেওয়া উইকিলিকসেও পরিষ্কার অভিযোগ তোলা হয়। টেলিফোনে আড়িপাতার খবরও ফলাও করে এসেছে বিভিন্ন সময়। এসবের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন হয়ে থাকে পেন্টাগন থেকেই।

‘সাইবার ওয়ার’ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনকে দায়ী করা হয়ে তাকে। চীন এবং রাশিয়া বেশ কয়েকবার অভিযোগ তুলেছে, পেন্টাগন থেকেই তাদের দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ওয়েব পেইজ হ্যাকিং করা অথবা চেষ্টা করা হয়েছে। আফগানিস্তান যুদ্ধেও আমেরিকার সাইবার টিম সরাসরি জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে পেন্টাগনের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ চালানোর অভিযোগ কখনোই প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

যেখানে যুদ্ধ সেখানেই পেন্টাগনের সংশ্লিষ্টতা 

’পেন্টাগন’ শব্দটি সমগ্র বিশ্বে রাজনীতিসচেতন সব মানুষের কাছে পরিচিত। বিশ্বে যেখানেই যুদ্ধ, তা সশস্ত্র যুদ্ধই হোক আর স্নায়ুযুদ্ধই হোক, সেখানেই যে পেন্টাগনের সংশ্লিষ্টতা থাকে।

বিশ্বের কোথায় যুদ্ধ বাধাতে হবে, কোথায় যুদ্ধ থামাতে হবে, কী ধরনের অস্ত্র উৎপাদন করতে হবে এবং কোন দেশের কাছে তা বিক্রি করতে হবে, কোন দেশে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে হবে সব কিছুই পেন্টাগন থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

কোনো দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রেও পেন্টাগনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

পেন্টাগন আমেরিকান সামরিক স্থাপনার প্রতীক

পেন্টাগনের অবয়বই বলে দেয় ভবনের গুরুত্ব। ভবনের সুবিশাল আকৃতি, চমৎকারিত্ব ও নির্মাণ জটিলতার কারণে পেন্টাগন ছোটখাটো একটি শহরের সাথে তুলনীয়। বিশ্বের অন্যতম বিশাল অফিস ভবনটি শিকাগোর মার্চেন্ডাইজ মার্টের আয়তনের দ্বিগুণ এবং নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সব তলার মেঝের মোট আয়তনের তিন গুণ।

ওয়াশিংটন ডিসি’র ’ক্যাপিটল হিল’ নামে পরিচিত বিশাল হাউজ অব কংগ্রেস ভবনটি পেন্টাগনের পাঁচটি বাহুর একটিতেই এটে যাবে। প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৯২১ ফুট করে।

পেন্টাগন নির্মাণকৌশল এত চমৎকার যে, বিশালত্ব সত্ত্বেও ভবনের এক অংশ থেকে আরেক অংশে যেতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগে। যে ভবনে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখা অর্থাৎ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও মেরিন এবং তাদের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংগঠনগুলোর কাজ সমন্বয় করা হয়, সেখানে সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পাদনের জন্য দ্রুততা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতি তলায় কড়িডোর রয়েছে, যার মোট আয়তন সাড়ে ১৭ মাইল।

পেন্টাগনের ইতিহাস

পেন্টাগনের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪১ সালে। শেষ হয় ১৫ জানুয়ারি, ১৯৪৩ সালে। পেন্টাগনের অফিস আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ।

১৯৪১ সালে পেন্টাগন নির্মাণের পরিকল্পনাটি মাথায় আসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রেহন সমারভেলের, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ওই সময়ে ১৭টি বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দফতরে কাজের সমন্বয়হীনতা ও স্থানাভাবের কারণে একটি নতুন ভবনে প্রতিরক্ষা দফতর স্থানান্তরের কথা ভাবেন।

ওই বছরের ১৪ আগস্ট কংগ্রেস নতুন ভবনের জন্য ৮৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর পেন্টাগনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং মাত্র দুই বছরের মধ্যে তখনকার ওয়াশিংটন ডিসি’র উপকণ্ঠে, আর্লিংটন ফার্ম নামে পরিচিত জায়গায় নির্মিত হয় অতিকায় এই ভবনটি। পাঁচটি রাস্তার ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বলে ভবনটিকে পাঁচ বাহুবিশিষ্ট করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

ষাটের দশকের শেষ দিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় পেন্টাগন যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৯৬৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দুই হাজার ৫০০ মহিলা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট ম্যাকনামারার অফিসের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সে বছরের মে মাসে ২০ জন বিক্ষোভকারী জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের অফিসের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং গ্রেফতার করার আগে তাদের অবস্থান চার দিন স্থায়ী ছিল।

একই বছরের ২১ অক্টোবর ৩৫ হাজার যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারী প্রতিরক্ষা দফতরের সামনে বিক্ষোভের জন্য সমবেত হয়ে মুখোমুখি হয় দুই হাজার ৫০০ সশস্ত্র সৈনিকের। ১৯৭২ সালের ১৯ মে ‘ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ড অর্গানাইজেশন’ নামে আমেরিকান উগ্রপন্থী দলের সদস্যরা পেন্টাগনের চতুর্থ তলার এক বাথরুমে একটি বোমা স্থাপন করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়।

তারা ঘোষণা করে যে, নিক্সন প্রশাসন কর্তৃক হ্যানয়ে বোমা হামলার প্রতিবাদেই পেন্টাগনে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ প্রায় ১৫ হাজার বিক্ষোভকারী ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

১৯৯৮ সালে পেন্টাগনে বড় ধরনের সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ হাতে নেয়া হয়, যা ২০১০ সালে শেষ হয়েছে।

হিটলার যখন ইউরোপের অধিকাংশ স্থান দখলে নিয়ে আকস্মিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর হামলা করে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট নাৎসিদের অগ্রগতিতে শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ওয়াশিংটনে ওয়ার ডিপার্টমেন্টে তখন ২৪ হাজার লোক কাজ করছিল ১৭টি পৃথক ভবন থেকে, যেগুলোকে সমন্বিত করার জন্য ছয় মাসের জন্য নির্মাণাধীন পেন্টাগনের পাঁচ লাখ বর্গফুট স্থান প্রস্তুত করার নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তী এক বছরের মধ্যে পেন্টাগনের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হয়।

পেন্টাগনে প্রবেশপথের চিহ্নটি বলে দিচ্ছে অনেক কথা
পেন্টাগনে প্রবেশপথের চিহ্নটি বলে দিচ্ছে অনেক কথা | রন ম্যাকথার

পেন্টাগন ডিজাইন ও নির্মাণ

পেন্টাগনের ডিজাইন করেন আমেরিকান স্থপতি জর্জ বার্গস্ট্রম এবং নির্মাণকাজের জন্য দায়িত্ব লাভ করেছিল ফিলাডেলফিয়ার নির্মাণ সংস্থা জন ম্যাকশেইন ইনকরপোরেটেড, যে প্রতিষ্ঠানটি ইতঃপূর্বে ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জেফারসন মেমোরিয়াল, ন্যাশনাল নেভাল মেডিক্যাল সেন্টারের মতো বড় প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। পুরো প্রকল্প তদারকির দায়িত্ব ছিল সেনাবাহিনীর কর্নেল লেসলি গ্রোভসের ওপর।

এর স্থাপত্য কৌশল নিও ক্ল্যাসিক্যাল ধাঁচের, যার বাস্তব রূপ দিতে ছয় ৮০ হাজার টন বালুর প্রয়োজন পড়েছে রিইনফোর্সড কংক্রিট তৈরি করতে, কংক্রিট পাইলস লেগেছে ৪১ হাজার ৩৯২টি। শুধু দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের দিকেই যে খেয়াল রাখা হয়েছে তা নয়, নির্মাণসামগ্রী যাতে কম লাগে সেদিকেও দৃষ্টি ছিল স্থপতি ও প্রকৌশলীদের। তারা যে পরিমাণ ইস্পাত সাশ্রয় করতে পেরেছিলেন, তা দিয়ে একটি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা সম্ভব ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইস্পাতের ঘাটতি ছিল বলে এই সাশ্রয়ের নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। ভবনটি যাতে প্রতি বর্গফুট জায়গায় ১৫০ পাউন্ড ওজন বহন করতে সক্ষম হয়, তা নিশ্চিত করা হয়েছিল, কারণ যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দলিলপত্র সংরক্ষণে যেন কোনো সমস্যা না হয়। নির্মাণকাজ যখন গতি পায় তখন এক হাজার স্থপতি ও প্রকৌশলী কাজকে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার জন্য যখন যে অংশের নির্মাণ চলছিল সেই অংশের ডিজাইনের প্রিন্ট সরবরাহ করছিলেন ১৪ হাজার নির্মাণ শ্রমিক ও কারিগরদের কাছে। প্রতিদিন কাজ হতো তিন শিফটে।

নির্মাণকাজ এত দ্রুত চলছিল যে, একপর্যায়ে প্রকৌশলীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজাইন সরবরাহ করতে পারছিলেন না। জাপানিরা পার্ল হারবারে হামলা করার পর পেন্টাগনের কাজের গতি আরো বৃদ্ধি পায়। ব্রিগেডিয়ার সমারভেল ১৯৪২ সালের ১ এপ্রিলের মধ্যে ভবনের দশ লাখ বর্গফুট ব্যবহারোপযোগী জায়গার নির্মাণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। অবশ্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ১৬ মাস পর ১৯৪৩ সালের ১৫ জানুয়ারি পেন্টাগন উদ্বোধন করা হয়।

পেন্টাগনে কেন এত দর্শনার্থী

কিছু সংরক্ষিত স্থান ছাড়া পেন্টাগন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এবং বছরে প্রায় ১০ লাখ দর্শনার্থী পেন্টাগন পরিদর্শন করেন। দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য পেন্টাগনের দক্ষিণ-পূর্ব প্রবেশপথটি ব্যবহৃত হয়, যেখানে পেন্টাগন মেট্রো স্টেশন ও বাস স্টপেজ রয়েছে। একই পাশে দোতলায় রয়েছে একটি খোলা জায়গা, যেখানে একটি ছোট শপিং মলও আছে। ভবনটি নির্মাণে ইতালির কোনো মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়নি, যদিও ইতালি ছিল মার্বেল পাথর আমদানির অন্যতম উৎস। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইতালি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু দেশ।

পেন্টাগনের দক্ষিণ পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে ওয়াশিংটনের অভিজাত শপিং এরিয়া পেন্টাগন সিটি এবং আর্লিংটনের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা ক্রিস্টাল সিটি। উত্তর দিকে আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রি। ওয়াশিংটন মেট্রো পেন্টাগন স্টেশনও পেন্টাগনেই, যেখানে ব্লু ও ইয়েলো লাইনের মেট্রো ট্রেন যাত্রাবিরতি করে। যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল সার্ভিস শুধু পেন্টাগনের জন্য পাঁচটি জিপ কোড বরাদ্দ দিয়েছে এবং সেগুলো ওয়াশিংটন ডিসির অন্তর্ভুক্ত, যদিও পেন্টগন প্রকৃতপক্ষে ভার্জিনিয়ার মধ্যে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রে যতগুলো বিখ্যাত ফাস্ট ফুড কোম্পানি রয়েছে তার প্রায় সবগুলোর আউটলেট রয়েছে পেন্টাগনে। ২০০৩ সালে চালু হয়েছে কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন, পিজ্জা হাট ও টাকো বেল রেস্টুরেন্ট। সেন্টার কোর্টইয়ার্ড ক্যাফে চালু হয়েছে ২০০৮ সালে, যেখানে আগে ছিল ’গ্রাউন্ড জিরো ক্যাফে’। ১৯৯৮ সালে পেন্টাগনের সংস্কারকাজ হাতে নেয়ার আগে বাথরুম ব্যবহারে বর্ণবৈষম্য চালু ছিল অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের পৃথক বাথরুম ব্যবহার করতে হতো, এখন আর তা হয় না।

পেন্টাগন অ্যাথলেটিক সেন্টার চালু করা হয়েছে ২০০৪ সালে, যেটি সেখানে কর্মরত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা ব্যবহার করতে পারে। প্রতি বছর পেন্টাগনের মাঠে মেরিন কোর আয়োজন করে থাকে ম্যারাথন এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় দশ মাইল দীর্ঘ দৌড় প্রতিযোগিতার।

পেন্টাগনে দর্শনার্থীদের জন্য গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে ১৯৭৬ সালে, আমেরিকান ফেডারেশনের দ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে পেন্টাগনে হামলার পর সাময়িকভাবে এই ট্যুর স্থগিত রাখা হলেও পরে তা আবার চালু হয়েছে।

তথ্যসূত্র

  • Pentagon Spending Set to Hit Near-Record Levels, But ‘Establishment Says We Can’t Afford’ Progressive Policies
  • DK Find Out! | Fun Facts for Kids on Animals, Earth, History and more!
  • www.bd-pratidin.com
  • www.bdviews.net
  • bn.wikipedia.org
  • পেন্টাগনের কথা, আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু
  • en.wikipedia.org

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here