৪ জনকে আসামি করে নিলয়ের স্ত্রীর মামলা

ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন তার স্ত্রী।
শুক্রবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডের পর রাতেই আশা মনি এই মামলা করেন বলে খিলগাঁও থানার পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন খান জানিয়েছেন।

মামলায় আসামিদের কারও নাম উল্লেখ করেননি এই ব্লগারের স্ত্রী। অচেনা চার যুবক ঘরে ‍ঢুকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে তিনি সাংবাদিকদের আগেই বলেছিলেন।

দুপুরে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই পূর্ব গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ডের কাছে ৮ নম্বর রোডের ১৬৭ নম্বরের পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলায় নিলয়ের ঘরে ঢুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে যায় ওই যুবকরা।

ঘরে তখন নিলয়ের স্ত্রী ও শ্যালিকাও ছিলেন। তাদের অস্ত্রের মুখে বারান্দায় আটকে রাখা হয়েছিল বলে আশা মনি জানিয়েছেন।

২৭ বছর বয়সী নিলয় রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কালেকটিভ নামে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। ব্লগে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

গত কিছুদিন ধরে হুমকি পাওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে নিলয় আড়াই মাস আগে জিডি করতে গেলেও থানা তা নেয়নি বলে ফেইসবুকে এক পোস্টেও তিনি লিখে গেছেন।

অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও অনন্ত বিজয় দাশের মতো এই ব্লগারকে হত্যার দায় স্বীকার করেও আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার বিবৃতি এসেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেছে, “নিলয়ের গলা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপের চিহ্ন রয়েছে। এর আগে অন্য ব্লগারদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, এক্ষেত্রেও হত্যাকাণ্ডের ধরণ একই রকম।”

ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়, ফাইল ছবি ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়, ফাইল ছবি ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় খুন হওয়ার পর স্ত্রীর আহাজারি। ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় খুন হওয়ার পর স্ত্রীর আহাজারি।
আশা মনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ওই যুবকরা ‘নারায়ে তাকবির’ বলতে বলতে হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং পরে চলে যায়।

সব ব্লগার হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিরা জড়িত বলে পুলিশ বলে এলেও একমাত্র বাবু হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে দুজন ধরা পড়েছিলেন।

এছাড়া অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের পর ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি ফেইসবুকে ‘নাস্তিকদের’ হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ফারাবীর তালিকায় নিলয়ের নাম ছিল বলেও এই ব্লগার তার এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখে গিয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here