বাঘ কমেনি, পশ্চিমবঙ্গে বেড়াতে গেছে!

পায়ের ছাপ দেখে ও ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ সম্ভব নয়। এমন কি বাঘের পরিসংখ্যান যারা দেয় তারাও সত্যবাদী নন বলে দাবি করেছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিশ্ব বাঘ দিবস ও মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন দাবি করেন। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘কে বলেছে বাঘ কমে গেছে? বাঘ পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে বেড়াতে গেছে। আবার চলে আসবে।’

সম্প্রতি প্রকাশিত বাঘের পরিসংখ্যানটি সঠিক নয় উল্লেখ করে বন ও পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘পরিসংখ্যান যারা দেয় তারাও সত্যবাদি নন। আমার আত্মীয়স্বজনরা সুন্দরবনে বেড়ানো শেষে বলে বাঘ দেখে এসেছি। তখন পরিসংখ্যানকারীদের জিজ্ঞেস করলে বলে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে এসেছি। এই হলো বাঘ দেখার পরিস্থিতি। পায়ের ছাপ দেখে ও ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ কখনই সম্ভব নয়।’ সুন্দরবনের বাঘ কোনোদিনই বিলুপ্ত হবে না বলেও এ সময় দাবি করেন বনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাঘ রক্ষার জন্য বিশ্ব ব্যাংক, ইউরোপিয় ইউনিয়ানসহ বিশ্বের বিভিন্ন মহল দায়িত্বে আছে। কিন্তু যখন বাঘ বিলুপ্তির পথে তখন আমাদের দায়ী করা হয়। এই অনুষ্ঠানে তাদের নিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল।’

বাঘসুন্দরবন রক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা সুন্দরবন ধ্বংস করছে বা গাছ কাটছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে সুন্দরবন রক্ষা সহজ হবে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের জ্বালানির বিকল্প হিসেবে কাঠ ছাড়া কিছুই নেই। এ বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে হবে। সেইসঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ ইসলাম আল জ্যাকব বলেন, ‘বাঘ আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করছে। তাই বাঘকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, ‘বাঘ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয় সেগুলোর অধিকাংশই ফাইল বন্দী হয়ে থাকে। তাই কার্যক্রমও হয় ধীর গতিতে।’

অনুষ্ঠানে বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল ঢাকা বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে, উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বাংলাদেশ অ্যাক্টিং কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টাইন ই কিমস। শুরুতে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here