Home > বাছাইকৃত > ছাড় দেবেন না খালেদা জিয়া

ছাড় দেবেন না খালেদা জিয়া

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকে গত ৬ জানুয়ারি থেকে লাগাতারভাবে চলছে অবরোধ-হরতাল। আজ ৬৭ দিনে পড়েছে এ কর্মসূচি। দীর্ঘ এই সময়ে দেশজুড়ে বহু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। সর্বত্র বিরাজ করছে অস্থিরতা। ক্রসফায়ার, কথিত বন্দুকযুদ্ধ, পেট্রলবোমা, সংঘর্ষ ও গুলিতে নিহত হয়েছে প্রায় দেড় শ মানুষ। মামলা-হামলা-গ্রেফতারে জর্জরিত বিরোধী জোটের লক্ষাধিক নেতা-কর্মী। এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০ দলীয় জোটের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় গুলশান কার্যালয়ে কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সঙ্কট নিরসনে সরকার কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় আন্দোলন প্রশ্নে অনড় রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। নতুন নির্বাচন ইস্যুতে ন্যূনতম সমঝোতা না হলে কিংবা সরকার সংলাপে না বসলে চলমান হরতাল-অবরোধ চালিয়ে যাবেন তিনি।
বিএনপি নেতারা গত রাতে বলেছেন, সরকারের মনোভাব নমনীয় নয়। সরকার হার্ড লাইনে থাকলে তারাও হার্ড লাইনে থাকবেন। সরকারের এমন অবস্থান বিবেচনায় এনেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনো হার্ড লাইনে থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। আজকের সংবাদ সম্মেলনে তিনি আন্দোলনের যৌক্তিকতা এবং সরকারের ‘নির্বিকারত্ব’ তুলে ধরে কর্মসূচি প্রসঙ্গে ‘নতুন বার্তা’ দেবেন।
দলের সিনিয়র এক নেতা বলেন, ‘এতটুকু বলতে পারি, সরকার ছাড় দিয়ে সংলাপে না বসলে খালেদা জিয়াও ছাড় দেবেন না। সরকার কী করতে চায়, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’
বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, আরো মাসখানেক হরতাল-অবরোধ চালাবে বিরোধী জোট। এর মধ্যে ঢাকায় সমাবেশ করার চিন্তাভাবনা করা হলেও তা চূড়ান্ত নয়। আপাতত যেভাবে আন্দোলন কর্মসূচি চলছে, সেভাবেই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে দলের শীর্ষ নেতারা।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা যে দাবি জানিয়েছি, এটা শুধু আমাদের দাবি নয়; জাতীয় দাবি।’
দলের আরেক নেতা বলেছেন, সরকারকে ‘স্পেস’ দেয়ার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা প্রমাণ করতেই অবরোধ বহাল রেখে সমাবেশের ডাক দেয়া হতে পারে। যদি সরকার সমাবেশ করতে না দেয়, কিংবা সমাবেশ থেকে দেয়া ‘বার্তা’ মেনে না নেয় তাহলে পরের সপ্তাহেই আবারো টানা হরতাল দেয়া হবে। এভাবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলতেই থাকবে।
গুলশান কার্যালয় সূত্র বলছে, দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদের সন্ধান না মেলায় তার পরিবার ও দল খুবই উদ্বিগ্ন। তার সন্ধান পেতে দলের সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিচ্ছেন। তবে কেউ নিশ্চিত হতে পারছে না তিনি কোথায় আছেন? তার অনুপস্থিতিতে দলের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আরেক যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলুকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিনের খোঁজ না মেলায় বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এবং জাতিসঙ্ঘে বিষয়টি অবহিত করেন সেখানে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা। দলটির দাবি, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ও জাতিসঙ্ঘ থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সালাহউদ্দিনের সন্ধান চাওয়া হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, দুই দলকে সংলাপে বসাতে কূটনীতিকদের তৎপরতাকে ‘ভালো চোখে’ দেখছে বিএনপি। তবে কূটনীতিকদের উদ্যোগে সরকার আগ্রহ না দেখালে, বিএনপি আগবাড়িয়ে কিছু বলবে না। কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ চলছে।
দলের একাধিক নেতার মতে, খালেদা জিয়ার কাছে অবশ্যই বিশেষ বার্তা আছে। নইলে তিনি অনড় থেকে আন্দোলন চালাতেন না। এ মাসটা অন্তত কঠোরভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।