Home > বাছাইকৃত > চীনের মালা থেকে বাংলাদেশে মুক্তা খসাল ভারত

চীনের মালা থেকে বাংলাদেশে মুক্তা খসাল ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে স্বাক্ষরিত ২০ চুক্তির মধ্যে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সম্মতি আদায় ভারতের বড় অর্জন। এর মধ্যে নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় এই চুক্তিকে ‘চমকপ্রদ’ বলে আখ্যায়িত করেছে বিশ্লেষণধর্মী সংবাদমাধ্যম দ্যা ডিপ্লোম্যাট।

ভারতকে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে বাংলাদেশের সম্মতির বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে এতে শিরোনাম করা হয়, ‘চীনের মালা থেকে বাংলাদেশে একটি মুক্তা খসাল ভারত। এক দশক আগে, একটি প্রতিবেদনে ‘মুক্তার মালা’ (স্ট্রিং অব পার্লস) রূপকটি ব্যবহার করা হয়। ভালো ও মন্দ- দুই অর্থেই এটির ব্যবহার আছে।

এর পর থেকে সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্লেষকরা সাগরে ভারত-চীন প্রতিযোগিতার আলোকে ওই রূপক ব্যবহার করেন। চট্টগ্রাম বন্দর অনেক দিন ধরেই চীন প্রভাবিত বন্দরগুলোর (পাকিস্তানের গোয়াদার, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা, মালদ্বীপের মারাও এবং মিয়ানমারের কিয়াউকপিউ) তালিকায় আছে, যেগুলো বেইজিংয়ের ‘মুক্তার মালা’ হিসেবে পরিচিত।

এতে বলা হয়, মোদির সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে চুক্তিটি হয়েছে, সেটি হলো পণ্যবাহী ভারতীয় জাহাজগুলোকে চীন নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে ব্যবহারের সুযোগ দিতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি। এ চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আগেই আলোচনা হয়েছিল এবং এটি ২০১১ সালেই স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল বলে জানা যায়।

ভারত মহাসাগরে চীনের কৌশলী পরিবেষ্টনী নিয়ে ভারতের জনগণের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তা হচ্ছে, গত ২০১৪ সালের শেষের দিকে চীনের সাবমেরিন শ্রীলঙ্কায় নোঙর করলে। ভারত এর মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আর ভারত মহাসাগরের উপকূলে তাদের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো বাগিয়ে নিচ্ছে চীন এবং বন্দরগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে, যেটা আদতে নয়াদিল্লির নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বন্দরে ভারতের বেসামরিক জাহাজ প্রবেশ কেবল দুই দেশের সম্পর্কে কেবল আস্থাই বাড়াবে না, তা একই সঙ্গে ঢাকার ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব নিয়ে নয়াদিল্লির ভীতিও কমাবে।

চট্টগ্রামে ভারতীয় নৌজাহাজ নোঙরের প্রতীক্ষায় আছেন যারা, তাদের হয়তো অপেক্ষায় থাকতেই হবে। সুদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কাছে এই চাওয়াটা হবে একটু বেশিই। এতে হাসিনা সরকার নয়াদিল্লির কাছে নতিস্বীকার করেছেন বলে যেসব ধারণা রয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সে স্পর্শকাতার বিষয়গুলো নিশ্চিতভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে।