সরকার এবং জনগণের সম্পর্ক স্বচ্ছ হোক

সরকার এবং জনগণের সম্পর্ক স্বচ্ছ হোক

এসব লুকোচুরি খেলা রাষ্ট্রের জন্য ভালো কিছু নয়।
এটা শুরু হয়েছিলো শেখ হাসিনার হাত ধরে। তিনি ছিলেন রহস্যমানবী। তিনি কাকে মন্ত্রী বানাবেন, আর কাকে সাইজ করবেন, এটা কেউ জানতো না। কেবল জানতেন তিনি এবং তার অনুগত একটি ছোট্ট গ্রুপ। এই ছোট্ট গ্রুপে কে কে ছিলো, এটাও আজ অবধি রহস্যময়।
শেখ হাসিনার সর্বশেষ রহস্যজনক নিয়োগ ছিলো রাষ্ট্রপতি চুপ্পু। আওয়ামীলীগ এবং তৎকালীন সরকারের অধিকাংশ মানুষ ঘূর্ণাক্ষরে জানতে বা বুঝতে পারেন নি, এক অখ্যাত ব্যক্তিকে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি বানাতে যাচ্ছেন।
এভাবেই সরকার এবং জনগণের মধ্যে শেখ হাসিনা একটি উচু প্রাচীর, একটি দুবোর্ধ্য দেয়াল তৈরি করেছিলেন। সেই দেয়ালের আড়ালে কী হতো, এটা সাধারণ মানুষের বোঝার বাইরের একটি বিষয় ছিলো। একজন মানুষ রাস্তা থেকে হারিয়ে গেলে, খোদ পুলিশ প্রধান কিংবা গোয়েন্দা প্রধানও জানতেন না, কে তাকে তুলে নিয়ে গেছে।
আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, একই লক্ষণ এখনো বর্তমান। বিএনপির অনেক প্রথম সারির নেতা, তাদের ঘনিষ্ট সাংবাদিকরাও জানতেন না, কে মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। কিংবা কোন বিচারে সদ্য সাবেক এক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষকে হুট করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানানো হলো। কী তার যোগ্যতা, কী তার কানেকশন?
এটা দুঃখজনক এবং একইসাথে এটি ভীষণ বিপদজনক।
এরা তো মন্ত্রী। জনগণের সেবক। এরা তো গোপন মিশনের কোনো কর্মী না যে, এদের নিয়োগ গোপন রাখতে হবে। কেন শেখ হাসিনার স্টাইলে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মিডিয়াতে বলবেন, কে মন্ত্রী হবেন, এটা একমাত্র তারেক রহমান ডিসাইড করবেন। সব উনি জানেন। এই ভাষা তো ব্যবহার করতো আওয়ামীলীগের নেতারা।
সরকার এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক কী তাহলে? লুকোচুরি খেলা? সরকার হবে স্বচ্ছ। যাতে জনগণ স্পষ্ট দেখতে এবং বুঝতে পারে, কারা কারা মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, কী যোগ্যতায় তারা মন্ত্রী হচ্ছেন, কেনই বা তারা মন্ত্রী হচ্ছেন। জনগণের অধিকার আছে, কে তাদের দেশকে বিদেশে রিপ্রেজেন্ট করবে? কে হতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী? এইটুকু জানার অধিকার কি জনগণের নেই? একইভাবে কে হবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কে দেখবেন সংস্কৃতি, কে দেখবেন প্রবাসী কল্যাণ, প্রতিটি কেবনিটে কারা আসবেন, কোন যোগ্যতায় আসবেন, কী তাদের এজেন্ডা, এগুলো প্রত্যেকটি ব্যাপার জনগণের কাছে পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ তথ্য আকারে থাকতে হবে।
আমি বলছি না, যারা মন্ত্রী হয়েছেন, তারা অযোগ্য। আমি শুধু বলছি, যারা মন্ত্রী হয়েছেন, তারা তো চুরি করতে আসছেন না যে, ব্যাপারটা গোপন রাখতে হবে। আর বিএনপির নেতারা যে বার বার মিডিয়াতে বলেছেন, কারা মন্ত্রী হবেন, এটা একমাত্র তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত। এই বক্তব্যও অগ্রহণযোগ্য। তারা কী করে বলেন, বিএনপির মতো একটি বৃহৎ দলের সকল সিদ্ধান্ত তারেক রহমান এককভাবে নেন। এটা খুবই দুঃচিন্তার বিষয়।
সরকারের কাজকর্ম যখন গোপন থাকে, তখন সরকার এবং জনগণের মধ্যে দূরত্ব এবং অবিশ্বাস তৈরি হয়।
অবিশ্বাস এবং দূরত্বের সংস্কৃতির অবসান হোক।
নয়া সরকারের প্রথম দিনে, আমার জোরালো দাবি এটাই। সরকার এবং জনগণের সম্পর্ক স্বচ্ছ হোক।

Scroll to Top