নারীর অস্বস্তিকর ছয় গোপন স্বাস্থ্যকথা ও এর সমাধান

স্বাস্থ্যগত কিছু বিষয় থাকে যা নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই না। বিশেষ করে নারীদের কিছু স্বাস্থ্যগত বিষয়ে কাছের মানুষের কাছ থেকেও পরামর্শ নিতে অস্বস্তিবোধ হয়। তবে চিকিৎসককে সবই খুলে বলতে হয়। আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনকোলজিস্ট লরেন স্ট্রিচার বলেন, সারা দিন মানুষের অদ্ভুত সব আসে। এগুলোর জবাব দেওয়া আমার দায়িত্ব। তাই দিতে হয়। এখানে জেনে নিন সারীস্বাস্থ্য বিষয়ে ৬টি তথ্য যা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো।

১. আপনি যখন খুব বেশি ঘামেন তখন বুঝতে হবে, আপনার ঘাম উৎপাদনকারী গ্ল্যান্ড নানাভাবে উত্যক্ত হচ্ছে। নারী প্রাপ্তবয়স্ক হলে অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা হতে পারে। একে বলে হাইপারহাইড্রোসিস। এটি অন্যান্য ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। আবার হতে পারে ডায়াবেটিসের লক্ষণ।

এ ধরনের ঘাম হলে স্রেফ দুর্গন্ধ দূর করাতেই মনোযোগ দেবেন না। এ জন্যে চিকিৎসককে দেখান। তা ছাড়া খাবারে জিঙ্ক এবং আয়রন বেশি খাওয়া হলেও ঘামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

২. যদি যৌনতার প্রতি আপনার আগ্রহ না থাকে তবে কয়েক ধরনের সমস্যা হতে পারে। এই আগ্রহ মূলত দৈহিক ও মানসিক উভয় বিষয়ের সমন্বয়। নারীর দেহে এস্ট্রোজেন হরমোন কম উৎপাদন হলে যৌনতার প্রতি আগ্রহ থাকে না। আরো কারণ হতে পারে বিষণ্নতা। ডোপামেন হরমোনের ঘাটতিও যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দিতে পারে। বিষণ্নতা ভর করলে ডোপামেন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দিতে পারে।

৩. নারীর পিটুইটারি গ্ল্যান্ড বিশেষ এক ধরনের হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়। এই হরমোন বুকের দুধ উৎপাদনে সহায়তা করে। আপনি গর্ভবতী কিনা তার ওপর ভিত্তি করে এই হরমোনের ক্ষরণ ঘটে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনিয়মিত মাসিক, গর্ভধারণে সমস্যাসহ অস্টেপরোসিস ঘটতে পারে।

৪. নারীর মলদ্বারে সামান্য পরিমাণ বিশেষ তরল জমতে পারে যাকে বলে ফিজারেস। যখন হজমের প্রক্রিয়ায় মল অন্ত্রের দিকে যেতে থাকে, তখন কোলন প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে। এ সময় দেহে তৃষ্ণা অনুভব করবেন। এ সময় মলত্যাগ কষ্টকর হতে পারে যা টিস্যুতে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। এ সময় অনেকের শেষ পর্যন্ত টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এ ক্ষেত্রে সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

৫. খুবই অস্বস্তিকর একটি সমস্যা হলো, যোনিপথে বাজে এক ধরনের গন্ধ হতে পারে। এর অর্থ সেখানে পিএইচ এর মাত্রা প্রচুর বেড়ে গেছে। এর ফলে ক্ষতিকর দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ব্যাকটেরিয়াল ভেগিনোসিস। এই অবস্থায় যোনিপথে প্রদাহ, চুলকানিসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকের কাছে এই দুর্গন্ধের সঠিক বর্ণনা দেওয়া জরুরি বিষয়। এতে করে চিকিৎসক পিএইচ এর মাত্রা এবং ছত্রাক সংক্রমণের বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

৬. যৌনকর্মের সময় অনেক সময় যোনিপথে প্রচুর ব্যথা অনুভব হতে পারে। এটা হওয়ার কারণ এমন হতে পারে যে, দুজনের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত আপনাকে হয়তো সেক্সের জন্যে প্রস্তুত করেনি, কিন্তু তার আগেই যৌনকর্ম শুরু হয়েছে। এই প্রচণ্ড ব্যথার জন্যে এস্ট্রোজেনের কম ক্ষরণকেও দায়ী করতে পারেন। সাধারণত এই অবস্থায় সৃষ্টি হয় সন্তান জন্মদানের পর। আবার জন্মনিয়ন্ত্রণকারী পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে।
সূত্র : ফক্স নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here