Home > জীবনধারা > দ্রুত বাড়ছে সৌর বিদ্যুতের জনপ্রিয়তা

দ্রুত বাড়ছে সৌর বিদ্যুতের জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৬০ লাখ বাড়িতে সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। যা এখনকার থেকে দ্বিগুণ।

ঢাকায় সৌর বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তির এক প্রদর্শনীতে এমন ধারনা পাওয়া গেছে। বর্তমানে দেশের গ্রামাঞ্চলগুলোতেই সৌর বিদ্যুতের মতো বিকল্প ব্যবস্থা বেশি জনপ্রিয়। বড় শহরগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি থাকলেও সেখানে এর ব্যবহার নেই বললেই চলে।

এ প্রদর্শনীতে সোলার প্যানেল, এনার্জি বাল্ব, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারকে সাশ্রয়ী করার নানান প্রযুক্তির পণ্য প্রদর্শন হচ্ছে।

দর্শনার্থীদের বেশিরভাগ অবশ্য নিজেরাই বিকল্প ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ পণ্যের বিক্রেতা। যারা এখান থেকে প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারনা পেতে এসেছেন।

বাংলাদেশে সরকারি হিসেবে প্রায় ৪০ লাখ বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম রয়েছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন আগামী পাঁচ বছরে তা দ্বিগুণ হবে। কারণ জাতিয় বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতার বাইরে এখনো বহু মানুষ রয়ে গেছে। সেই বিষয়টিকে টার্গেট করেই মেলায় এসেছেন ১১ টি দেশের অনেক কোম্পানি। চীনের নিংবো সোলার কোম্পানির মিলার সু তাদের একজন।

তিনি বলেন ,ঢাকার বাইরে এখনো অনেক যায়গায় বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছায়নি। সেখানকার মানুষদের জন্য সোলার হোম সিস্টেম খুবই একটা ভাল ব্যবস্থা হবে। সেখানে আমরা বা আমাদের মতো অন্যরা পণ্য বিক্রি বাড়াতে চায়। এতে এই গ্রামগুলো উপকৃত হবে। বাংলাদেশের জন্যেও বিষয়টা কল্যাণকর হবে

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ গ্রিডের বাইরে থাকা মানুষজন খুব সহসাই বিদ্যুতের লাইনের আওতায় আসবেন এমন সম্ভাবনা দেখছেন না জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কারণ বিদ্যুতের উৎপাদন ততটা বাড়ছে না। আর সে কারণেই বিকল্প ব্যবস্থাতে বিনিয়োগ বাড়ছে বলছিলেন জার্মান এনজিও জিআইজেডের টেকসই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ দিলদার আহমেদ তৌফিক।

সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক শতাংশ আসে বিকল্প জ্বালানি থেকে। সরকার ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌর ও বিকল্প ব্যবস্থা থেকে উৎপাদন করার টার্গেট ঘোষণা করেছে।

এখন বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। যার বিশাল অংশের ভোক্তা শহুরে কিন্তু বিকল্প জ্বালানিদের তাদের ক্রেতা হিসেবে ধরছেন না বিক্রেতারা। কারণ তাদের আগ্রহী করে তোল যাচ্ছে না কিন্তু বড় ভোক্তাদেরই আগ্রহী করতে হবে বলছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ এনার্জির পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল হকের

ঢাকায় সেই প্রক্রিয়া ছোট আকারে শুরু হয়েছে। নতুন ভবনে বিদ্যুতের সংযোগ নিতে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকার নিয়ম করেছিল সরকার। যদিও খুব একটা মানা হয়নি সে নিয়ম। বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবহারে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন গ্রামীণ মানুষজন।

সৌজন্যে: বিবিসি বাংলা