Home > দেশজুড়ে > ঢাকার বাইরে > সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে

আগামী বাজেটে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে। চলতি বাজেট থেকে এ খাতে বরাদ্দ বেশি থাকছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে। যে কারণে আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৪৫ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।


সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর বাজেটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে অর্থ বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি রাখা হয়। চলতি বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ২৮ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী বাজেটে ৫ শতাংশ বাড়লে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ হাজার ১৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, এ বরাদ্দের পরিমাণ থাকছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং পে-স্কেল বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মাহবুব আহমেদ বলেন, বাজেটে পে-কমিশন বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

জানা গেছে, আগামী ৪ জুন বাজেট ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেন্স কাউন্সিল বৈঠকে আগামী বাজেটের আকার নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার জন্য এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে তাও আলোচনা করা হয়। কারণ এ বছর বাজেটে একটি বড় চাপ তৈরি হবে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে। ফলে নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, পে-স্কেল বাস্তবায়ন কমিটি তাদের রিপোর্ট প্রায় চূড়ান্ত করেছে। বাস্তবায়ন কমিটি তাদের পর্যালোচনা রিপোর্ট অর্থমন্ত্রীকে ইতোমধ্যে অবহিত করেছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ও অনুমোদন নিয়ে এটি চূড়ান্ত করা হবে। তবে আগামী বাজেট ঘোষণার আগেই এ রিপোর্ট দাখিল করা হবে। আর এ রিপোর্ট দাখিলের পর আসবে বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থসংস্থানের বিষয়টি। যে কারণে বাজেটে এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. ফরাস উদ্দিন তাদের সুপারিশ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে হস্তান্তর করেন। সেখানে সর্বোচ্চ বেতন ৮০ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করার সুপারিশ করেছেন। তবে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, শুধু সাড়ে ১২ লাখ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে বর্তমানের তুলনায় বেতন খাতে অতিরিক্ত ১০ হাজার ৯০ কোটি টাকার প্রয়োজন। জানা গেছে, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিরক্ষা খাত বাদে জাতীয় বেতন স্কেলভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা হচ্ছে ১২ লাখ ৬৫ হাজার। শুধু এসব চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাবদ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ আছে ২৩ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেতন বাবদ ব্যয় ১১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা এবং ভাতা বাবদ ১২ হাজার ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন স্কেল বাস্তবায়ন করলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শুধু বেতন খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে ২১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। যা বর্তমান বেতন খাতের বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার ৯০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

নতুন পে-স্কেলে প্রতিরক্ষা বাদে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ধরনের ভাতার পেছনে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে আরও ৭ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। বিভিন্ন ভাতা বাবদ চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ১২ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে অর্থের প্রয়োজন হবে ১৯ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা।

অতিরিক্ত অর্থের মধ্যে বাড়িভাড়া খাতে চার হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, চিকিৎসা ভাতা খাতে ৯৯৮ কোটি টাকা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা খাতে এক হাজার ২৫০ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যাতায়াত ভাতা খাতে ৩৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, উৎসব ভাতা এক হাজার ৭১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ৫৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকা, টিফিন ভাতা ১৫৪ কোটি টাকা, পাহাড়ি ও দুর্গম ভাতা প্রায় ৮৪ কোটি টাকার দরকার।

এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সহায়তা বাবদ চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ৫ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে এ খাতে প্রয়োজন হবে ৭ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। বর্তমানের তুলনায় আগামী বছরে অতিরিক্ত অর্থের দরকার হবে এক হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা।