খালেদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ ২৮ জুন

24

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় একজন নিহত এবং ৩১ জন দগ্ধ হওয়ার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে কি না সে বিষয়ে আগামী ২৮ জুন আদেশ দেবেন ঢাকা সিএমএম আদালত। খালেদা জিয়াসহ ওই মামলার আসামি মোট ৩১ জনের বিষয়ে সেদিন আদেশ দেবেন আদালত।

বৃহস্পতিবার এই আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সামসুল আরেফীন।

এরআগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

যাত্রবাড়ীর ওই ঘটনায় গত ৬ মে খালেদা জিয়াসহ দলটির ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি (হত্যা) এবং বিস্ফোরক আইনে দুটি চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের এসআই বশির আহমেদ। এরপর একই ঘটনায় গত ১৯ মার্চ বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি চার্জশিট দাখিল করেন।

তিন মামলায় চার্জশিটের ৩৮ জন আসামির মধ্যে ৭ জন আটক এবং খালেদা জিয়াসহ ৩১ জনকে পলাতক উল্লেখ করে ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার এসব চার্জশিট গ্রহণ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারক আগামী ২৮ জুন নথি পর্যালোচনা সাপেক্ষ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

চার্জশিটে বিএনপি চেয়ারপারসনকে হুকুমের আসামি হিসেবে ১ নম্বর রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, চেয়ারপারসনের তথ্য উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, বরকত উল্লাহ বুলু, আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, কাইয়্যুম কমিশনার, লতিফ কমিশনার, মীর আবু জাফর শামসুদ্দিন দিদার, যাত্রবাড়ী এলাকার সাবেক এমপি সালাদ্দিন আহমেদ, তার ছেলে তানভির আহমেদ রবিন, নবী উল্লাহ নবী, সেলিম ভূইয়া।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি রাত ৯টায় যাত্রাবাড়ীর ডেমরা রোর্ডের মাতুয়াইল কাউন্সিলর অফিসের সামনে গ্লোরী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় দগ্ধ হন কমপক্ষে ৩১ জন। যাদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর আলম নামে একজন মারা যান।

ঘটনার পর পরিককল্পনাকারী হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় ১৮ জন নেতাসহ যাত্রবাড়ীর ছাত্রদল শ্রমিকদলসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৫০ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলাটি করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম এজাহরে আসামির তালিকায় উল্লেখ করা না থাকালেও এজাহারের বক্তব্যের মধ্যে হুকুমদাতা হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়।