লঞ্চ উদ্ধার : মৃতের সংখ্যা ৭০, নিখোঁজ ১১

image_190784.lonch dubiপদ্মার পাটুরিয়া-দৗলতদিয়া নৌপথে ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমভি মোস্তফার উদ্ধারের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ৭০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুই জনের মরদেহ সনাক্ত হয়নি। নিখোঁজ রয়েছে ১১ জন বলে জানিয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

রোববার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে পদ্মা নদীতে ডুবে যায় এমভি মোস্তফা-৩ নামের লঞ্চটি। বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লঞ্চটির ১৪০ জন যাত্রী বহনের ধারণ ক্ষমতা ছিল।

শীর্ষ নিউজের মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি বিএম খোরশেদ জানান, স্ত্রী লিপিকে(২৬) খুঁজতে ঘটনাস্থলে আছে কুষ্টিয়ার কুমারখালির মিলন। তিনি তার স্ত্রীর কোন খোঁজ পাচ্ছেন না। মেয়ে ফাতেমার মৃতদেহ পেলেও স্ত্রীর খোঁজে এখনও পদ্মা পাড়ে অপেক্ষা করছেন।

লঞ্চটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিল এ ব্যাপারে সঠিক কোন তথ্য নেই জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কারো কাছে।

এদিকে নিহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে মরদেহ দাফনের জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে।

পরবর্তীতে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লাখ ৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী।

রাত চারটার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ঘটনাস্থল থেকে লঞ্চটিকে টেনে পাড়ে তুলে। পরে লঞ্চটিকে সোজা করলে তার ভিতরে আরো ৫ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর মাঝখানের এক ‘ডুবোচরের’ ওপর লঞ্চটি আটকে ছিল। তাই দ্রুত সনাক্ত করা গেছে ।

উদ্ধারকৃত ৭০ মৃতদেহের মধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ৬৮। ২ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় না পেলে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দাফনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

ঘটনা তদন্তে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান। উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয় নৌবাহিনীর ১১ সদস্যের ডুবুরি দল, মানিকগঞ্জ দমকল বাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ ও স্থানীয় লোকজন।

ঘাতক কার্গো ও তার মাস্টারসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার দুটি বাসের যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় এমভি মোস্তফা। লঞ্চটি ঘাট থেকে ছেড়ে মাঝ নদীতে গেলে এমভি নার্গিস নামে একটি কার্গো তাকে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চটি ডুবে যায়।

ডুবে যাওয়ার পরপরই বিভিন্ন লঞ্চ ঘটনাস্থলে গিয়ে যাত্রীদেরকে উদ্ধারের কাজ শুরু করে। ফলে প্রায় শতাধিক যাত্রী সাঁতরে লঞ্চ ও নৌকায় উঠে প্রাণে বেঁচে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here