Home > বাছাইকৃত > ইভিএমে কারচুপি রোধ সম্ভব নয়

ইভিএমে কারচুপি রোধ সম্ভব নয়

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের প্রথা চালুর পর পেরিয়ে গেছে প্রায় পাঁচ বছর। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এতোদিন মেশিনটি নিয়ে গুনগান গাইলেও হঠাৎ নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বললেন, এতে কারচুপি রোধ সম্ভব নয়।

এজন্য তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদকে যন্ত্রটির কারিগরি উন্নয়নের প্রতিও জোর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সিইসি ছাড়াও অন্য তিন নির্বাচন কমিশনারের কাছে রোববার (২১ জুন) এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ এই নির্বাচন কমিশনার।

আবদুল মোবারক এতে লিখেছেন, বর্তমানে যে ইভিএম আছে, এতে ভোট সংখ্যার কাগজি রেকর্ডের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ভোটারের পরিচিতি নম্বর শনাক্তকরণেরও ব্যবস্থা নেই। ফলে এ যন্ত্রটি দ্বারা কারচুপি রোধ করা সম্ভব নয়।

এজন্য ভবিষ্যতে যন্ত্রটি ক্রয় করার সময় কারিগরি উন্নয়ন আনার প্রতি চিঠিতে জোর দেন তিনি।

মোবারক তার প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেন, ইভিএমে ভোটারের পরিচিতি নম্বর ও আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করা এবং প্রদত্ত বা গৃহীত ভোটের কাগজি রেকর্ড, যন্ত্রের ভেতরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভোটগ্রহণ বা প্রদান যান্ত্রিকীকরণের সুফল পাওয়া যাবে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, যেহেতু নষ্ট মেশিন কার্যকর করার বিষয়ে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়ে কোনো ফল পাওয় ‍যায়নি, তাই কমিশনের নিজস্ব প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে দিয়েই তা পুনর্গঠন করা দরকার। এক্ষেত্রে যন্ত্রটি খুলে পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও পুনর্গঠনের দৃশ্য ভিডিও করার পরামর্শ দেন তিনি। যাতে ইসির আইসিটি বিভাগসহ অন্য বিভাগের প্রত্যেক প্রকৌশলী কর্মকর্তা ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মচারীরা ইভিএম কিভাবে প্রস্তুত হয় ও কার্যকর হয়, সে বিষয়ে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারেন।

আইন বিষয়ে সবচেয়ে দক্ষ ও জ্ঞানী এ নির্বাচন কমিশনার ইভিএম খোলা, বাঁধা, পরীক্ষা ও পর্যালোচনার একটি কার্যক্রম অবিলম্বে গ্রহণ করতে সিইসিকে অনুরোধও জানিয়েছেন।

এটিএম শামসুল হুদার বিগত নির্বাচন কমিশন ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে এ ভোটযন্ত্রের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর তারা কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে যন্ত্রটির ব্যবহার করে সুফল পান। তবে বর্তমান কমিশন ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ব্যবহারের সময় একটি ইভিএমে ত্রুটি দেখা দেয়। যা এখনও পর্যন্ত সারাতে পারেনি কমিশন। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েটও এ বিষয়ে কোনো সাড়া দিচ্ছে না। অবশেষে এই কমিশনার নিজেদের কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই এটি পর্যবেক্ষণের পর উন্নয়নের সুপারিশ করলেন।