ইরানের বিরুদ্ধে আবারো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের বিরুদ্ধে ধারবাহিক বিদ্বেষী নীতির আওতায় দেশটির পাঁচটি শিল্প গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা।

মার্কিন সরকার বৃহস্পতিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সহযোগিতা করার ‘অভিযোগে’ ওই পাঁচ শিল্প গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এসব কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এসব কোম্পানি ইরানের বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠী ‘শাহিদ বাকেরি’র শাখা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় বলেছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা পাঁচ ইরানি কোম্পানির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, এসব কোম্পানির সাথে যেকোনো বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এগুলোকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সম্প্রতি বলেছিলেন, ইরানের চলমান গোলযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে অচিরেই নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

বিদ্রোহ পরাজিত হয়েছে : ইরানি জেনারেল

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নামে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘বিদ্রোহ’ পরাজিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির রেভ্যুলেশনারি গার্ডের প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জাফারি। বিভিন্ন শহরে সরকার সমর্থকদের বিশাল বিশাল শোভাযাত্রার মধ্যে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও জনগণের সতর্কতা’ শত্রুদের পরাজিত করেছে।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও দুর্নীতির প্রতিবাদে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ইরানের দ্বিতীয় জনবহুল শহর মাশহাদে বিক্ষোভ শুরু হয়; পরে যা সরকারবিরোধী বিােভের রূপ নিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার পর্যন্ত বিােভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দু’জন নিরাপত্তারীও রয়েছেন। বিােভকারীরা পুলিশ স্টেশনগুলোয়ও হামলা চালায়।

২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইরানজুড়ে বিােভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তার পর থেকে এবারের সরকারবিরোধী বিােভকেই জন অসন্তোষের সবচেয়ে গুরুতর ও ব্যাপক প্রকাশ হিসেবে দেখছেন পর্যবেকেরা। বিােভের মধ্যে এ সপ্তাহের শুরু থেকে বিভিন্ন শহরে অস্থিরতাবিরোধী শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করে সরকার সমর্থকেরা।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেরমানশাহ, ইলাম ও গোরগান নগরীর মিছিলের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি ছিল।

জনগণের এই পাল্টা অবস্থানে বিক্ষোভকারীরা পিছু হটেছে বলে জানান জাফারি। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা ৯৬ (পার্সিয়ান দিনপঞ্জি অনুযায়ী এখন ১৩৯৬ সাল) এর বিদ্রোহের শেষ দেখছি। নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও জনগণের সতর্কতা শত্রুদের পরাজয়ের পথে নিয়ে গেছে।’ দেশের বিভিন্ন শহরে বিােভ হলেও নিরাপত্তারীদের মাত্র তিনটি শহরে সীমিত আকারে হস্তপে করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, প্রতিটি জায়গায় বেশি হলে এক হাজার ৫০০ লোক ছিল; সারা দেশে সমস্যা সৃষ্টিকারীর সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি ছাড়াবে না। বিপ্লববিরোধী চর, রাজতন্ত্রপন্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি কিনটনের নিয়োগ করা শক্তি ইরানজুড়ে দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতা ও চক্রান্তের জন্য দায়ী বলেও মন্তব্য করেন জাফারি। তিনি বলেন, শত্রুরা ইসলামিক ইরানের নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির প্রতি হুমকি হওয়ার চেষ্টা করেছিল।

ইরানি জেনারেলের এ মন্তব্য দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেয়া বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি।

দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে মঙ্গলবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছিলেন, ইরানে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে শত্রুরা। তিনি কারো নাম উল্লেখ না করলেও পর্যবেকদের ধারণা, শত্রু বলতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরবকে ইঙ্গিত করেছেন। বিােভের সাথে দেশীয় কিছু কর্মকর্তারও যোগ আছে বলে মন্তব্য করেন জাফারি।

অহিংস অসহযোগের ডাক শিরিন এবাদির
এ দিকে রুহানি-খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরুর ডাক দিয়েছেন সে দেশের মানবাধিকারকর্মী শিরিন এবাদি। বিক্ষোভের সংবিধানসম্মত অধিকার সমুন্নত রেখে জনতাকে রাস্তায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে নোবেল পুরস্কার জিতে নেয়া সুখ্যাত এই মানবাধিকার-আইনজীবী ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী ইরানি শাসনব্যবস্থার ঘোর বিরোধী। ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন সাবেক এই বিচারক। সৌদি মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আশারক আল-আওসাতকে একটি সাাৎকার দিয়েছেন শিরিন এবাদি। বিােভ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সর্বাত্মক অহিংস অসহযোগ শুরুর আহ্বান জানান তিনি। – বিবিসি