বয়সের খোজে

শফিক রেহমান

২০১৮ সাল এল।
আমাদের সবার বয়সই বাড়ল।
আমাদের সবার চাইতে বেশি বয়স পৃথিবীর। তার বয়স কত?
বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে সিদ্ধান্তে এসেছেন যে আমাদের পৃথিবীর বয়স ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর। ১,০০০ মিলিয়নে হয় এক বিলিয়ন। আর ১,০০০,০০০ (দশ লক্ষ)-এ হয় এক মিলিয়ন। তার মানে পৃথিবীর বয়স এখন কতো? এবার ক্যালকুলেটর দিয়ে অংক করে দেখুন।
তবে বিজ্ঞানীরা এটাও বলেছেন যে, তাদের এই হিসাব ৫০ মিলিয়ন কমবেশি হতে পারে। তবে এ নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা নেই। কারণ আমরা, মানুষেরা যখন মাত্র ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত বাচবো কিনা সেটা ভাবছি তখন পৃথিবীর বয়স গোনায় কয়েক মিলিয়ন এদিক ওদিক হলে আমার কিছু আসে যায় না।

বিজ্ঞানীরা আরো বলেছেন পৃথিবীর বাইরে থেকে ভেতর পর্যন্ত মাটির বিভিন্ন স্তর, পৃথিবীতে যুগে যুগে উল্কা পতনের ঘটনা এবং পৃথিবীর প্রতিবেশী উপগ্রহ চাদ পরীক্ষা করে তারা পৃথিবীর বয়স গুণেছেন। এখানে বলা উচিৎ, বিভিন্ন ধর্মে পৃথিবীর বয়স ভিন্নভাবে গোনা হয়েছে তার ফলে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে পৃথিবীর বয়সের ভিন্নতা বিদ্যমান।

কিন্তু সেটা যাই হোক না কেন, বিজ্ঞানীরা বলেননি এই ৪.৫৪ বিলিয়ন বছরের বয়সের তাৎপর্য কি? পৃথিবী এখন কিশোর? যুবক? পৌঢ়? প্রবীণ? বৃদ্ধ? বর্তমান পারমানবিক ডোনাল্ড ট্রাম্প যুগে অনেকে মনে করেন, পৃথিবী কিশোরই হোক অথবা বৃদ্ধই হোক – পৃথিবী এখন মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে আছে।
২০১৮ সাল যে পৃথিবীর বয়স আরো এক বছর বাড়িয়ে দেবে সেটা আমরা বলতে পারি। আর হ্যা, সেই সঙ্গে এটাও বলতে পারি যে, আমার নিজের বয়স তো বটেই – পৃথিবীর সব মানুষেরই বয়স এক বছর বেড়ে যাবে ২০১৮তে। এই তথ্য অবশ্য কিশোরদের জন্য কাম্য হতে পারে। কারণ, তারা প্রাপ্ত বয়স্ক হতে চায় – যৌবনে পা দিতে চায়। অন্যদিকে এই তথ্যটা প্রবীণ ও বৃদ্ধদের জন্য কাম্য না-ও হতে পারে। কারণ তাদের অনেকেই যৌবনে ফিরে যেতে চান। কারণ তারা জানেন বয়োবৃদ্ধির অবধারিত ফল হচ্ছে মৃত্যু। আর সাধারণত কেউই মৃত্যুবরণ করতে চান না। রবীন্দ্রনাথই যে শুধু লিখেছিলেন – ’মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে’ তা কিন্তু নয়। আমার প্রয়াত পিতা সাইদুর রহমান তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন –

’আজীবন প্রয়াসের দ্বারা যদি কিছু উপলব্ধি অর্জন করেও থাকি, তাহলে সে উপলব্ধি লিখে প্রকাশ করবার সামর্থ আজ আমার নেই। মৃত্যুর ডাক শুনতে পাই। তবু আমার মনে ভরসা জাগে এই ভেবে যে, মৃত্যুকে রোধ করার জন্য পৃথিবীর অনেক দেশে বিজ্ঞানীরা আজ গবেষণারত। বিজ্ঞানীদের সে প্রয়াস কি একদিন সফল হবে না? আমার দেশে দেখতে পাই জন্মকে নিয়ন্ত্রণ করার এক সর্বাত্মক অভিযান। এই অভিযানের পাশাপাশি মৃত্যুকে নিয়ন্ত্রণ করার তো কোনো উদ্যোগ দেখি না। এমন একটা ক্ষীণ আশা আজ আমার করতে ইচ্ছে করছে যে, জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মানব জীবন একদিন হয়তো মুক্তি পাবে। আমি সেদিন বেচে থাকবো না। ………সভ্যতার ঊষালগ্নে বিজ্ঞানের কোনো জ্ঞান মানুষের ছিল না। সমস্যার সমাধানে অসমর্থ হয়ে মানুষ নির্ভর করেছে অজানা নিয়তির ওপর। তখন ধৈর্য ছিল মানুষের আদর্শগত অবলম্বন। আদিম মানুষ প্রকৃতির প্রতিকূল শক্তিকে ভয় করে পূজা করেছে কৃপা লাভের আশায়। কিন্তু আধুনিক কালে প্রকৃতির প্রতিকূলতাকে মানুষ বশ করে চলেছে। এখন অবস্থা ভিন্ন। প্রকৃতির ভয়াবহ শক্তি এখন আর মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার করে না। এখন সে চায় প্রতিকূল শক্তিকে বশ করতে, নিজের কাজে লাগাতে। পৃথিবীর বয়সের তুলনায় বিজ্ঞান আজও নিতান্ত্যই শৈশবের আঙিনায়। প্রায় দুই শ বছর আগে সংঘটিত ফরাশি বিপ্লবের পর থেকে মানুষ প্রকৃতিকে জয় করবার নেশায় মত্ত হয়েছে। স্বল্পকালের মধ্যেই অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। এখন যা অজানা ও রহস্যময়, অদূর ভবিষ্যতে তা মানুষের জ্ঞানের আওতায় এসে পড়বে- এটা বিজ্ঞ্নাীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।’
(সূত্র : শতাব্দির স্মৃতি, অনন্যা প্রকাশনী anannyadhaka@gmail.com)।

ওপরের কথাগুলো সাইদুর রহমান (১৯০৯-১৯৮৭) লিখেছিলেন ১৯৮৫-তে তার মৃত্যুর দুই বছর আগে। লক্ষণীয় যে, তিনি ৭৮ বছর বেচে থাকলেও ৭৬ বছর বয়সেও ”জন্ম-মৃত্যুর চক্র” থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
আমার নিজের বয়স ১১ নভেম্বর ২০১৭তে হয়েছে ৮৩ বছর। অর্থাৎ, ইতিমধ্যে আমি আমার পিতার চাইতে পাচ বছর বেশি বেচেছি।
কিন্তু এখন আমি জন্ম-মৃত্যুর চক্র সম্পর্কে কি ভাবছি? উত্তর – অনেক কিছু ! ”বেচে আছি” শীর্ষক ধারাবাহিক লেখায় পাঠকরা কিছু উত্তর ভবিষ্যতে পেতে পারেন।

আমি যে ঘরে লিখি, আমার স্টাডি রুম বা ওয়ার্ক রুম, যাই বলা হোক না কেন, সেখানে একটি কার্ড দেয়ালের বুকশেলফে ঝোলানো আছে যাতে লেখা – ’যৌবন হচ্ছে প্রকৃতির উপহার, বয়োবৃদ্ধি হচ্ছে শৈল্পিক কাজ (Youth is the gift of nature but age is a work of art)। এটি বলেছিলেন পোল্যান্ডের কবি স্টানিসল লেক (Stanislaw Lec) যাকে বলা হয় যুদ্ধোত্তর পোল্যান্ডের সেরা লেখকদের অন্যতম। তারও জন্ম হয়েছিল সাইদুর রহমানের জন্ম বছর ১৯০৯-এ। তবে তিনি মারা যান ১৯৬৬-তে অর্থাৎ ৫৭ বছর বয়সে। মাত্র ৫৭ বছর বয়সেই তিনি বার্ধক্যের কথা ভেবেছিলেন।
স্টানিসল লেক বুদ্ধিদীপ্ত উক্তির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। সেই বুদ্ধিমান ব্যক্তিটি কি এই উক্তির মাধ্যমে নিজেকে সান্ত¦না দিতে চেয়েছিলেন?

স্টানিসল লেক-এর অনুভুতির প্রকাশ অন্যরা অন্যভাবে করেছেন। অজানা এক ব্যক্তি বলেছিলেন, আমাদের বয়স্ক হতে সাহায্য করার জন্য দরকার বয়স্ক বন্ধুদের এবং আমাদের তরুণ থাকতে সাহায্য করার জন্য দরকার তরুণ বন্ধুদের (We need old friends to help as grow old and new friends to help us stay young)।

আরেক অজানা ব্যক্তি বলেছিলেন, তরুণরা ভাবে বুড়োরা বোকা কিন্তু বুড়োরা জানে তরুণরা বোকা (Young men think old men are fools, but old men know young men are fools)।
একবিংশ শতাব্দি হচ্ছে চরম প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময়। এই সময়ে তরুণরা বুদ্ধিমান না হোক, তাদের সমসাময়িকদের পেছনে ফেলার জন্য তারা হয়েছে চালাক বা শাদামাটা ভাষায় ট্যাটন। তরুণদের অনেকেই জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে চায় বুড়োদের কষ্টার্জিত সাফল্য ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। আমেরিকায় বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে ৭০ বছর উর্দ্ধ পিতামাতাকে পাগল প্রমানের চেষ্টা করছে তাদের ছেলেমেয়েরা যেন তারা আদালতের আদেশে পিতামাতার মৃত্যুর আগেই তাদের ধন-সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পায়।

অবশ্য আমেরিকার বিখ্যাত প্রেসিডেন্ট এব্রাহাম (উচ্চারণ আব্রাহাম নয়) লিংকন (১৮০৯-১৮৬৫) বলেছিলেন, সব শেষ মূল্যায়নটি হচ্ছে, আপনি কতো বছর বাচলেন তা নয় – আপনার জীবনের বছরগুলোর গুণগত মানটাই বড় কথা (And in the end, it’s not the years in your life that counts – it’s the life in your years)।
এব্রাহাম লিংকন আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ৫৬ বছর বয়সে।

বয়স বিষয়ে আরেক আমেরিকান, মোটর কার নির্মাতা ও শিল্পপতি হেনরি ফোর্ড বলেছিলেন, কেউ যদি শেখা বন্ধ করে দেয় তাহলে সে হয়ে যায় বৃদ্ধ – তার বয়স ২০ অথবা ৮০, যেটাই হোক না কেন। যে সব সময়ই শিখে চলে সে-ই তরুণ। আর জীবনে সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো – আপনার মনকে তরুণ রাখা (Anyone who stops learning is old whether at 20 or 80. Anyone who keeps learning is young. The greatest thing in life is to keep your mind young)।
বয়োবৃদ্ধিকে যতোই সম্মান দেয়া হোক না কেন এটা রূঢ় বাস্তবতা যে, এক বয়সে মানুষের মানসিক শক্তি পরাজিত হয় শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কাছে। কিন্তু এটাও ঠিক যে, মানসিক শক্তি দিয়ে শারীরিক অসুবিধা অন্তত কিছুকাল ঠেকিয়ে রাখা যায়।

২০১৭’র ১৮ জানুয়ারিতে (আমাদের বিয়ের ঠিক ৬০ বছর পূর্তির দিনে) ডায়াগনসিস হয় স্ত্রী তালেয়া রেহমান ব্লাড ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বিষয়টি প্রথমে লন্ডনে চিহ্নিত হয়। কনফার্মেশন হয় ঢাকার পিজি হসপিটালে এবং বিশেষজ্ঞের উপদেশে তিনি চারদিন পরেই লন্ডনে চলে যান চিকিৎসার জন্য। তার পাশে থাকার জন্য স্বদেশের বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে আমি লন্ডনে গিয়ে পৌছাই ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭-তে। তালেয়া রেহমানের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল তার আগেই ২৩ জানুয়ারি ২০১৭-তে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটাল (সংক্ষেপে ইউসিএলএইচ – UCLH)-এর ম্যাকমিলান ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারে। এটি এখন ইওরোপের সর্বাধুনিক ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্র। চিকিৎসার প্রথম পাচ মাস তালেয়ার লড়াইটা ছিল যমে-মানুষে টানাটানির মতো। এক পর্যায়ে তাকে বোন ম্যারো টেস্ট (Bone Marrow Test) অর্থাৎ বিনা এনসেথেসিয়ায় মেরুদণ্ডে ইনজেকশন দিয়ে অস্থিমজ্জা পরীক্ষা করতে হয়। খুবই বেদনাদায়ক একটি টেস্ট। তালেয়া এমনিতেই ছিল সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক। কিন্তু ক্যান্সার রোগ বিধ্বংসী পিল খাবার পরই সে হতো খুবই অসুস্থ। তখন ওই পর্যায়ে সে মানসিক শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করেছিল এবং প্রায় ১০ মাস চিকিৎসার পরে হসপিটালের কনসালটেন্টরা রায় দেন তার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে তবে তাকে নিয়মিত চেকআপ করতে হবে লন্ডনে এবং হসপিটালের দেয়া ওষুধ খেয়ে যেতে হবে পূর্ণ সুস্থতা অর্জনের লক্ষ্যে। তালেয়ার এই যুদ্ধ দেখে মনে হয়েছে হয়তো মনীষীদের কথায় কিছুটা সত্যতা আছে – মানসিক শক্তি দিয়ে শারীরিক দুর্বলতাকে কিছুটা বশে আনা যায়।

তালেয়ার বিপরীতে আমার এক বন্ধুর দৃষ্টান্ত দিতে পারি। সে বয়সে আমার চাইতে ছোট। যখন তার বয়স ৫০ পেরোয় তখন সে একদিন আমাকে বলেছিল, ব্রাদার, দৈনিক পত্রিকার পেইজ থৃ বা সিটি পেইজ এবং শেষ পৃষ্ঠার আগের পৃষ্ঠা আমি পড়ি না।
প্রশ্ন করেছিলাম, কেন?
উত্তরে সে বলেছিল, ওই দুটি পৃষ্ঠায় থাকে শোক সংবাদ। ইন্নালিল্লাহে….রাজেউন। এই দুটি শব্দ আমি দেখতে চাই না। পড়তেও চাই না। কারো মৃত্যু সংবাদ দেখলেই আমি হিসাব করে দেখি মৃত্যুকালে তার বয়স কত হয়েছিল এবং সেই বয়সে পৌছাতে আমার আর কত বছর বাকি আছে।
অর্থাৎ, ৫০ বছর বয়সেই সে মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছিল এবং বেচে থাকার জন্য বহু রকম ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। ইংরেজিতে যাকে বলে হাইপোকনডৃয়াক – সে তাই হয়েছিল।
হ্যা, সে এখনো বেচে আছে। তবে কয়েক বছর যাবৎ সে ডিমেনশিয়া অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি বিলুপ্তিতে ভুগছে। অন্যভাবে বলা চলে, সে জীবন্মৃত হয়ে আছে। কেউ বলতে পারেন, এক্ষেত্রে তার মানসিক দুর্বলতার কাছে সে আগে ভাগেই পরাজিত হয়েছে।

আমার স্ত্রী ও আমার বন্ধু – দুজনের দুটি ভিন্ন শারীরিক অবস্থায় একটা প্রশ্ন আসতে পারে। সেটা হলো মানসিক দুর্বলতা জয় করার জন্য শারীরিক শক্তির প্রয়োজন – কিন্তু শারীরিক শক্তির জন্য প্রয়োজন কি?
এই প্রশ্নের অনেক উত্তর আছে। কেউ বলবেন, ভেজিটারিয়ান বা নিরামিষাশী হয়ে যাওয়া, কেউ বলবেন নিয়মিত এক্সারসাইজ করা বিশেষত হাটাহাটি করা, কেউ বলবেন নিয়মিত সময়ে খাওয়া ও ঘুমানো। আরেকটি উত্তর হতে পারে, সব সময় হাসিখুশি থাকা।

আমেরিকার ঔপন্যাসিক সল বেলো (Saul Bellow) বেচেছিলেন ৮৯ বছর বয়স পর্যন্ত এবং তিনি খুব পছন্দ করতেন বুদ্ধিদীপ্ত উক্তি ও জোকস। তার একটা প্রিয় জোক ছিল, অজ্ঞানতা ও নির্বিকার (ignorance ও indifference) থাকার মধ্যে তফাৎটা হচ্ছে – আমি জানি না ও আমি পরোয়া করি না (I don’t know and I don’t care)।
অনেকের মতে সল বেলো যে দীর্ঘকাল সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন তার একটি বড় কারণ ছিল তিনি হিউমার বা রঙ্গরস পছন্দ করতেন, জোকস পড়তেন এবং নিজেও জোকস বলতেন।

বিজ্ঞানীরা বলেন, রঙ্গরস, হাসি-ঠাট্টা, জোকস হিউমারের ফলে যে মানুষ হাসে, সে দীর্ঘকাল বাচে। তারা বলেন, উদ্বেগ আর আশংকা মানুষের হার্ট ডিজিজ বা হৃদরোগের কারণ হতে পারে। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড স্কুল অফ মেডিসিনের ড. মাইকেল মিলার জানান যে, তিনি নির্বাচিত কিছু দর্শককে কমেডি ও হাসির মুভির কিছু অংশ দেখিয়েছিলেন। তারা সেসব দেখে খুব মজা পেয়েছিলেন ও হেসেছিলেন। এই একই দর্শকদের এরপর তিনি দেখিয়েছিলেন, যুদ্ধের কিছু মুভির ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা ও মৃত্যুর দৃশ্য। তারা এসব দৃশ্য দেখে খুব উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন।

পরীক্ষায় দেখা যায় নির্বাচিত ২০ জনের মধ্যে ১৯ জনের দেহে উপকারী ব্লাড ভেসেল রিলাক্সেশন বেড়ে গিয়েছিল যখন তারা হাসির ছবি দেখেছিলেন। পক্ষান্তরে ১৪ জনের উপকারী ব্লাড ভেসেল সংকুচিত হয়েছিল যখন তারা ভয়াবহ ছবি দেখেছিলেন। (সূত্র : ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড টৃবিউন, ১৮ মার্চ ২০০৭)। তাই ড. মিলার বলেন, হাসিখুশি থাকলে মানুষ দীর্ঘকাল বাচতে পারে। সুতরাং জোকস পড়ুন, জোকস করুন। যেমন :
জনৈক মাঝবয়সী রোগী তার অপারেশনের পূর্ব মুহূর্তে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। সার্জন দেখলেন তার পেশেন্ট খুব নার্ভাস। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি হয়েছে?
দেখুন ডক্টর, আমি শুনেছি এই ধরনের অপারেশনে প্রতি দশজন পেশেন্টের মধ্যে মাত্র একজন বাচে। কথাটা কি সত্যি?
হ্যা, দুঃখজনক হলেও তথ্যটা সঠিক। আপনি ঠিকই জেনেছেন। তবে এই তথ্যটার ভালো দিকটা হচ্ছে আপনার উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। সার্জন বললেন।
কারণ? পেশেন্ট জানতে চাইলেন।
কারণ এর আগে যে নয়জন পেশেন্টের অপারেশন আমি করেছি সেই নয়জনই মারা গিয়েছেন। সার্জন স্মিতমুখে উত্তর দিলেন।

হয়তো নতুন বছরের শুরুতেই এই ধরনের একটা সিক (Sick) জোক শ্রোতার পছন্দ না-ও হতে পারে। তাহলে পরবর্তী জোকটা ট্রাই করুন।
এক বিত্তশালী অভিজাত বৃদ্ধা তার বান্ধবীকে বলেছিলেন, আমার স্বামী এখন এত বুড়ো হয়ে গিয়েছে যে সম্পূর্ণ অথর্ব হয়ে পড়েছে। তাই তাকে সারা দিন ও সারা রাত আমি পাহারা দেই।
কিন্তু এর আগে তুমি তো বলেছিলে, তোমার স্বামীর দিন-রাত যত্ন করার জন্য একজন তরুণী নার্স রেখেছ। বান্ধবীটি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন।
হ্যা, সে জন্যই তো আমি দিন রাত তার প্রতি খেয়াল রাখছি। বৃদ্ধা উত্তর দিলেন।
আজ এ পর্যন্তই।
”বেচে আছি” সিরিজে ভবিষ্যতে আরো কিছু লেখার আশা আছে – যদি বেচে থাকি এবং সুস্থ থাকি।
ইতিমধ্যে গুডবাই ২০১৭ এবং ওয়েলকাম ২০১৮।
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা – বেচে থাকুন।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭