গণধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা বেড়েছে

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ধর্ষণসহ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে মোট ১ হাজার ৭৩৭টি। অথচ গত বছর ১২ মাসে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৪৫৩টি। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অভাব, পিতৃতন্ত্র ও বৈষম্যমূলক আইন নারী নির্যাতন বাড়ার পেছনে দায়ী।

আজ রোববার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।

১৪টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মহিলা পরিষদ নারী নির্যাতনের এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, গত বছর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৭০৫টি, চলতি বছরে ১০ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪টিতে। একইভাবে গণধর্ষণ ১৩৯ থেকে ১৯৩ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৩১ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫২টি।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান ও ২৬টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদের পরিচালক (লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবি) মাকসুদা আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার, নারী উন্নয়ন সংগঠন—সবাই মিলে কাজ করছে। কিন্তু তারপরও এ ধরনের সহিংসতা বেড়েই চলছে। তনু হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমন ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে আমরা গড়িমসি করছি। এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্র যদি আপসহীন, ক্ষমাহীন এবং জিরো টলারেন্স না দেখায়, তাহলে সমাজের ভেতরে এ ধরনের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যাবে না।’
আয়শা খানম বলেন, লিঙ্গের ভিত্তিতে যে তত্ত্ব নারীকে অবদমিত করে রাখে, তা–ই পিতৃতন্ত্র। কিন্তু এ বিষয়গুলো সেভাবে উচ্চারণ করা হয় না। ধর্ষণের শিকার নারীর শারীরিক পরীক্ষায় অবমাননাকর ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ করা হয়, যা খুবই লজ্জাজনক। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি নয়, ধর্ষককেই প্রমাণ করতে হবে সে নির্দোষ।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপন করা সুপারিশগুলো প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হবে বলে জানান আয়শা খানম।

সুপারিশে বলা হয়েছে, লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ ও পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রশিক্ষণ সূচি জাতিসংঘের নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে গৃহীত ভিয়েনা ঘোষণা ও সিডও সনদের আলোকে জেন্ডার সংবেদনশীল করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করা, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে পাড়া–মহল্লায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। ধর্ষণের মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর মেয়ের বিয়ের বয়সসংক্রান্ত বিশেষ বিধান বাতিল করে আইনের বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে অভিন্ন পারিবারিক আইন চালুর (বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ আইন, অভিভাবকত্ব, দত্তক, সম্পত্তির উত্তরাধিকার বিষয়সমূহ) বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের সহসভাপতি নাহার আহমেদ, রেখা চৌধুরী, হান্নানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।