ছিটমহলবাসীদের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

জাতিসত্তার পরিচয় পাওয়া ছিটমহলবাসীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও বিশেষ অভিনন্দন জানান।

আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির মধ্য দিয়ে স্থল সীমানা নির্ধারণের যে শুভ সূচনা হয়েছিল ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারতের ঐকান্তিক ইচ্ছায় তা বাস্তবায়িত হলো।

এদিকে, পৃথক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছিটমহলবাসীরা নিজ জাতিসত্তার স্বীকৃতি পাওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৬৮ বছর পর ছিটমহলের অধিবাসীরা নিজস্ব পরিচয়, নির্দিষ্ট ভুখণ্ডে বসবাসের সুযোগ এবং প্রিয় মাতৃভূমির জাতীয় পতাকা ও মানচিত্র পেয়েছেন। যা অত্যন্ত আনন্দের।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য নাগরিকদের সঙ্গে এখন আর ছিটমহলবাসীর কোনো পার্থক্য নেই। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যে ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া দরকার সরকার সব রকমের ব্যবস্থাই করবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালেয়ের প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দেশ ভাগের সময় সিরিল রেডক্লিফ কমিশনের তাড়াহুড়োয় চিহ্নিত করা সীমান্তে ছিটমহল জটিলতার শুরু। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এ সমস্যার অবসানে ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি সম্পাদিত হয়। এরপর তা কার্যকরে প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয় ২০১১ সালে।

চলতি বছরের ৭ মে ভারতের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ওই চুক্তি বাস্তবায়নের পথ তৈরি হলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর হয়। এর প্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই রাতে মোট ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় হলো, এর মধ্যে বাংলাদেশ পেলো ১১১টি এবং ভারত পেলো ৫১টি। সঙ্গে নিশ্চিত হলো সবার নাগরিকত্বও।