প্রতি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, উপজেলায় সরকারি স্কুল’

দেশের প্রত্যেকটি জেলায় সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উপজেলায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে দু’দিনব্যাপী (শনি ও রোববার) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ছাত্রলীগের মূলনীতি শিক্ষা,শান্তি ও প্রগতি। এর থেকে ভালো কোনো নীতি হতে পারে না।

এ সময় শিক্ষা বিস্তারে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় অন্তত একটি সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া প্রত্যেক উপজেলায় অন্তত একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি এলাকায় আমরা স্কুল করে দিচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের সিদ্ধান্ত প্রতিটি জেলায় সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব। যে উপজেলায় কোনো সরকারি স্কুল নাই, সেখানে আমরা সরকারি স্কুলে প্রতিষ্ঠা করবো।

উদ্বোধনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ সময় ছাত্রলীগের সংগ্রামী ইতিহাসের প্রতি আলোকপাত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি সামরিক শাসনের সময় দেশে যখন রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিলো তখন এই ছাত্রলীগের মাধ্যমেই জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এমনকি বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর মাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মাধ্যমেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিতে তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙ্গালির যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে। এর এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রলীগ।

৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের শাসকচক্রের কারাগার থেকে মুক্ত করার সংগ্রামে ছাত্রলীগ মূল ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়েছিলো ছাত্রলীগের উদ্যোগে।

এ সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল প্রতিকূলতা ও বাধা সত্ত্বেও তিনি বদরুন্নেসা কলেজে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সহযোগী এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উৎসব মুখর পরিবেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর চলছে সম্মেলনের অন্যান্য কার্যক্রম।

সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দু’বছর পর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবার সম্মেলন হচ্ছে ৪ বছর পর।