রাজ্জাককে নিঃশর্তে ছেড়ে দিতে রাজি মিয়ানমার

অপহৃত বিজিবি সদস্য নায়েক আবদুর রাজ্জাককে শর্তহীনভাবে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।
বর্তমানে চীন সফররত বিজিবি ডিজি তার বার্তায় বলেন, আমার সাথে আজ (সোমবার) আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টায় মিয়ানমারে নিয়োজিত বাংলাদেশের ডিফেন্স অ্যাটাসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবের কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে তার বৈঠক হয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, বিজিবি নায়েক রাজ্জাককে তার ব্যক্তিগত অস্ত্রসহ নিঃশর্ত ও সম্মানজনকভাবে ফেরত দেয়া হবে।
এর আগে নায়েক রাজ্জাককে শর্তসাপেে ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের সীমান্তরী বাহিনী (বিজিপি) রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছিল বিজিবি। শর্তটি হচ্ছে, অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৫৫ জনকেও বিজিবি সদস্যের সাথে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এরা বাংলাদেশী বলে মিয়ানমার দাবি করলেও বাংলাদেশ সরকার যাচাই করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে কাউকে আনতে নারাজ। সপ্তাহখানেক আগে যাচাই করে দেড় শ’ জনকে আনার পরও তার মধ্যে রোহিঙ্গা ধরা পড়েছিল।
বিজিবির টেকনাফ ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বলেছেন, সোমবার বিজিপির সাথে তার তিন দফা আলোচনা হয়েছে। তারা রাজ্জাককে ফেরত দিতেও রাজি হয়েছে। তবে বিজিপির প থেকে শর্ত দেয়া হয়েছে, রাজ্জাকসহ মিয়ানমারের জলসীমায় দেশটির নৌবাহিনীর হাতে উদ্ধার ৭২৭ জনের মধ্যে ৫৫৫ জনকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি বলেন, রাজ্জাক এবং উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের ইস্যুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এরা বাংলাদেশী কি না বা কতজন প্রকৃত বাংলাদেশী, তা যাচাই-বাছাই করা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আপাতত রাজ্জাককে ফেরত দিতে বলেছে বিজিবি।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে গত ১৭ জুন কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে গোলাগুলির পর বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি। তখন বিপ্লব নামে একজন বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধও হন।
এরপর ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বিজিবি সদস্যকে ফেরত দেয়ার দাবি জানায়। বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেশটির পররাষ্ট্র সচিবের সাথে আলোচনা করলে জানানো হয়, নায়েক রাজ্জাক অবৈধভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তাই এর বিচার প্রক্রিয়া শেষেই তাকে ফেরত দেয়া হবে।