সাবধান! ভাবুন মশার কয়েল ব্যবহার করবেন কিনা

সামান্য একটি মশার কয়েলের ধোঁয়ায় থাকা রাসায়নিক, ১৩৭ টি সিগারেটে থাকা নিকোটিনের চেয়েও ক্ষতিকর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এমন মত উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দোকানপাটে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মশার কয়েল। বাড়তি লাভের আশায় নিম্নমানের এসব কয়েল বিক্রির দাবি বিক্রেতাদের আর ক্রেতারা বলছেন ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানার কারণেই কয়েল কিনছেন তারা।

মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে কয়েল জ্বালিয়ে দৈনন্দিন কাজ সারেন অনেকে। কিন্তু তারা জানেন না অজান্তেই তাদের দেহে প্রবেশ করছে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য।

অন্যদিকে, বাহারি নামের নানা ধরণের মশার কয়েল অনেকটা অবাধেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন পাড়া মহল্লার দোকানপাটে। মশার কয়েল উৎপাদন ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে দেশে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা মানছে না কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিকসমৃদ্ধ এসব কয়েলের অধিকাংশেরই নেই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন।

একজন ক্রেতা বলেন, ‘আমরা তো বুঝি না কোনটা ক্ষতিকর, মশা থেকে বাঁচতেই তা ব্যবহার করি।’

একজন দোকানি বলেন, ‘আমরা তো আসল-নকল যাচাই করি না, কোম্পানি যা দেয় তাই রেখে দেই। এছাড়া বিএসটিআই অনুমোদিত কয়েলে লাভ কম হয়, বেশি লাভের জন্যই আমরা এগুলো বিক্রি করি।’

চটকদার বিজ্ঞাপন আর মশা মারার গ্যারান্টি দিলেও এসব কয়েলের কোনোটিরই প্যাকেটের গায়ে নেই কোম্পানির সঠিক কোন ঠিকানা কিংবা রেজিস্ট্রেশন নম্বর। এক্ষেত্রে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিয়মনীতি মেনে কয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এসিআই লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘আমরা তো অনুমোদনের বাইরে যেতে পারবো না, এক্ষেত্রে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

এদিকে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার কয়েলে সহনশীল মাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা অনেক কম, তবে অধিকাংশ কোম্পানি তা না মানার কারণে নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এর ব্যবহারকারীরা।

বিএসএমএমইউ- এর বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক একেএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একটি মশার কয়েল ৮ ঘণ্টা জ্বালালে ১৩৭টি সিগারেটের সমপরিমাণ ক্ষতিকর উপাদান তৈরি করে।’

কড়া নজরদারির মাধ্যমে শিগগিরই অনুমোদনহীন মশার কয়েল বাজারজাতকরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।