মনিটর কোনটা কিনবেন

কোন51dc1578df74a8ee984784b4635fe518-Monitor-2 মনিটর কেনা যায়? বাজারে মনিটর কিনতে গিয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। মনিটর কেনার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখলেই মনিটর কেনা সহজ। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা মনিটর কেনার সময় ডিসপ্লের ধরন, রেসপন্স টাইম, ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল, কানেকটিভিটি প্রভৃতি বিষয় খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ডিসপ্লের ধরন
যখন বাজারে মনিটর কিনতে যাবেন তখন তিন ধরনের ডিসপ্লের বর্ণনা পাবেন যার মধ্যে রয়েছে টিএন, আইপিএস ও ভিএ। টিএন বা টুইস্টেড নেমাটিক ডিসপ্লে হচ্ছে কিছুটা নিম্নমানের প্যানেল। এতে রেসপন্স টাইম ভালো থাকলেও ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল থাকে নিম্নমানের। আইপিএস বা ইন-প্লেন সুইচিং (পিএলএস প্লেন-টু-লাই সুইচিংও বলে) এর মান টিএনের তুলনায় ভালো। এতে উন্নত রং দেখায় কিন্তু এতে রিফ্রেশ টাইম কিছুটা ধীরগতির। মনিটরে যখন কোনো কিছু প্রদর্শিত হয়, তখন প্রতি সেকেন্ডে ডিসপ্লে কতবার আলোকিত হয়, তা হচ্ছে রিফ্রেশ রেট। রিফ্রেশ রেট যত বেশি হবে, মনিটরের স্ক্রিন তত কম কাঁপবে এবং ছবি নিখুঁত দেখাবে। অন্যদিকে ভিএ বা ভার্টিক্যাল অ্যালাইনমেন্ট প্যানেল টিএন ও আইপিএস প্যানেলের সুবিধাগুলোকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করে; অর্থাৎ, এটি মাঝারি মানের। মাঝারি মানের ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল ও কনট্রাস্ট্রের কথা বললে ভিএ ভালো কিন্তু রেসপন্স টাইম ও রং দেখানোর কথা বললে এই প্যানেল আগের দুটির চেয়ে কম সুবিধাসম্পন্ন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, যাঁরা গেমার তাদের জন্য টিএন ডিসপ্লের মনিটর ভালো আর যাঁরা ছবি, গ্রাফিকস ডিজাইন নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের আইপিএস ডিসপ্লেতে যেতে হবে। যাঁরা ওয়েব ব্রাউজিং, লেখালেখি প্রভৃতি কাজে মনিটর ব্যবহার করতে চান, তাঁরা ভিএ মনিটর কিনবেন, কারণ এখানে কনট্রাস্ট রেশিও গুরুত্বপূর্ণ।

রেসপন্স টাইম
যাঁরা অ্যাকশন মুভি দেখতে বা গেম খেলতে পছন্দ করেন, তাঁরা মনিটর কেনার সময় ‘রেসপন্স টাইম’ বিষয়টি মাথায় রাখতে পারেন। রং পরিবর্তনের সময় অর্থাৎ কালো থেকে সাদা, সাদা থেকে কালো অথবা কালো থেকে কালো পরিবর্তিত হওয়ার সময় পিক্সেলগুলো কত দ্রুতগতিতে রং পরিবর্তনে সাড়া দিতে পারে, তা-ই পরিমাপ করা হয় রেসপন্স টাইম দিয়ে। আর এটা মিলিসেকেন্ডে হিসাব করা হয়। সুতরাং রেসপন্স টাইম যত কম হবে, তত দ্রুত ট্রানজেকশন পাওয়া যাবে এবং মনিটর তত ভালো হবে।

ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল
উন্নত ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলের অর্থ হচ্ছে, আপনাকে মনিটরের প্রদর্শিত ঠিক রং দেখতে স্ক্রিনের ঠিক সামনে বসতে হবে না। মনিটরের ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল প্রশস্ত হলে মুভি দেখতে সুবিধা হয়। একসঙ্গে সবাই মিলে মনিটরে ছবি দেখার কথা যাঁরা ভাবছেন, তাঁরা ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল বেশি, এমন মনিটর কিনুন। কত ডিগ্রি কোণ পর্যন্ত মনিটরের স্বাভাবিক রং বা উজ্জ্বলতা দেখা যাচ্ছে, তা বোঝাতে ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করা হয়। মনিটরের ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল যত বেশি হবে, তত ডিগ্রি পাশ থেকে মনিটরে পরিষ্কার ছবি দেখা যাবে।
কানেক্টর
এমন মনিটর কিনুন যাতে একাধিক ইনপুট দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। ভিজিএ পোর্ট এখন সবচেয়ে পরিচিত কানেক্টর। ডিভিআই ও এইচডিএমআই পোর্ট আছে, এমন মনিটর কিনুন। এইচডিএমআই পোর্ট থাকলে সরাসরি ক্যামকোর্ডার, ডিজিটাল ক্যামেরা, মিডিয়া প্লেয়ারের মতো ডিভাইসগুলো সরাসরি সংযোগ দিতে পারবেন এবং ছবি ও ভিডিও দেখতে পারবেন।
সিআরটি, এলইডি নাকি এলসিডি?
সিআরটি মনিটরের চল এখন প্রায় উঠেই যাচ্ছে। যদিও সিআরটি মনিটরের রেসপন্স টাইম ভালো কিন্তু এখন সহজে বহনযোগ্য নয় বলে এই মনিটর জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। পুরোনো সিআরটি মনিটরে নানা সমস্যা থাকতে পারে, তাই পুরোনো সিআরটি মনিটর না কেনাই ভালো।
সত্তরের দশকের শুরু থেকেই এলসিডি ডিজিটাল ঘড়িতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে বা এলসিডি নামটি দিয়েই বোঝা যায় দুটি প্লেটের মধ্যে এক ধরনের লিকুইড বসানো থাকে, যাতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হলে পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে সাদা-কালো এলসিডি ব্যবহৃত হলেও রঙিন এলসিডির ব্যবহার শুরু হয়েছে সাম্প্রতিককালে। কিন্তু প্রযুক্তি একই। অন্ধকারে যখন আমরা কোনো কিছু পড়তে চাই, আমাদের একটি বাটনে চাপ দিতে হয়। এলসিডি টিভিও এর ব্যতিক্রম নয়। এলসিডি যেহেতু নিজে কোনো আলো নির্গত করে না, তাই এর পেছনে আলোর প্রয়োজন পড়ে। এ জন্য এলসিডিকে বিভিন্ন স্তরের স্যান্ডউইচ বলা চলে।
এলইডিকে এলসিডির উন্নত সংস্করণ বলা চলে। ব্যালট বা পর্দার পেছনের আলোক উৎসের ভিত্তিতে এলসিডি মনিটরগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে সাধারণ এলসিডি মনিটর এবং অন্যটি এলইডি মনিটর। এলসিডি মনিটরের ক্ষেত্রে লিকুইড ক্রিস্টালের ওপর আলো ফেলে তা দিয়ে পর্দায় ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। আলোর উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয় ফ্লুরোসেন্ট লাইট কিংবা লাইট এমিটিং ডায়োড (এলইডি)। ব্যাকলিট লাইট হিসেবে লাইট এমিটিং ডায়োড ব্যবহার করা ছাড়া এলইডি ও সাধারণ এলসিডির মাঝে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ফ্লুরোসেন্ট টিউবের তুলনায় এলইডিতে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ কম হয় ও পর্দায় ভালো মানের ছবি পাওয়া যায়।

বাজারে কয়েকটি মনিটরের দাম
এলসিডি মনিটর: স্যামসাং ১৭ ইঞ্চি স্কয়ার ৯,৫০০ ও ১৮ ইঞ্চি ওয়াইড ৮,১০০ ও এলজি ১৭ ইঞ্চি স্কয়ার ৮,৮০০ টাকা।
এলইডি মনিটর: স্যামসাং ২৭ ইঞ্চি থ্রিডি ৬২,৫০০; ডেল ১৭ ইঞ্চি ৯,৬০০; আসুস ১৮.৫ ইঞ্চি ৮,২০০; এলজি ১৬ ইঞ্চি ৬,৫০০, ১৮.৫ ইঞ্চি ৭,৮০০ ও ২১.৫ ইঞ্চি ১২,৮০০ টাকা।