‘মিথ্যাবাদী’ বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থামিয়ে দিলেন এক ব্যক্তি

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ‘ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি’র প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

মন্ত্রী বলছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময় আমরা আন্তর্জাতিকভাবে অনেকগুলো ইসলামী সংস্থার সদস্য হয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি সৌদি আরবকে বলেছিলেন আমাদের দেশের হাজীরা যেন হজ করতে পারেন। বঙ্গবন্ধুর সময়ই বাংলাদেশের মানুষ অনুমতি নিয়ে হজ করতে পেরেছিলো।’

মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সবই বঙ্গবন্ধুর সময় হয়েছিলো। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মদ-জুয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও তার শাসনামলে কোনো ইসলাম বিরোধী কাজ করতে দেন নাই।’

বক্তব্যের এই পর্যায়ে দর্শকসারি থেকে উঠে এক ব্যক্তি ডায়াসের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বক্তৃতারত নাসিমকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলতে থাকেন, ‘মন্ত্রী সব মিথ্যা কথা বলছেন।’

এ সময় সেখানে হট্টগোল বেধে যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্য থামিয়ে দেন। পরে স্বেচ্ছাসেবকরা ওই ব্যক্তিকে ধরে বাইরে নিয়ে যান। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহবাগ থানায় আটক করে নিয়ে গেছে। আটক ব্যক্তির নাম মহিবুল্লাহ মুহিব বলে জানা গেছে।

এরপর মন্ত্রী আবার তার বক্তব্য শুরু করেন।

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন কেউ বানচাল করতে পারে নাই। সিটি নির্বাচনও কেউ বানচাল করতে পারবে না। এ নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে সে রায় আমরা মেনে নেব।

তিনি আরো বলেন,  নির্বাচন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে। চক্রান্ত করে বেগম জিয়ার দল নির্বাচন বন্ধ করতে পারবে না। মানুষকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণ জবাব দেবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন,  বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনে আসাকে স্বাগত জানাই। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না করে যে ভুল করেছিলেন তার মাশুল আপনাকে দিতে হচ্ছে। হরতাল-অবরোধ দিয়েছেন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার নামে কোনো ষড়যন্ত্র করবেন না। সিটি নির্বাচন হবেই। দুনিয়ার কোনো শক্তি নেই এই নির্বাচন ঠেকাতে পারে।

‘ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি’র চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।