ঘরেই হোক বিশুদ্ধ বাংলার চর্চা

10_131645-562x375এই সময়ের অনেক শিশুরাই ‘ইয়েস, নো আর সরি’র চক্করে নিজেদের আবদ্ধ করে ফেলছে। ফলে সেভাবে বাংলা ভাষা শেখা বা চর্চা করা কোনোটাই হয়ে উঠছে না।
আজকাল অনেক বাবা-মাও সন্তানকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করাতে চান। তারা মনে করেন সন্তান যদি ইংরেজিতে আরো বেশি স্বত:স্ফূর্ত হয় তাহলে সন্তান আরো বেশি উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।
তা হয়তো ঠিক। বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ তৈরি করার জন্য ইংরেজি শেখাটা অনেক দরকারি। কিন্তু সন্তানের জন্য নিজের মাতৃভাষা জানাটাই সবার আগে প্রয়োজন। আর যে ভাষার জন্য এত প্রাণ গেলো, যে ভাষার সম্মান রক্ষার্থে এত হানাহানি মারামারি সেটার প্রতি শ্রদ্ধা বাবা-মায়েরই তৈরি করে দিতে হবে সন্তানের মনে। তাই পড়ুক ও ইংরেজি ভাষা, কিন্তু জানুক এবং আত্নস্থ করুক বাংলা ভাষাকেই। এজন্য চেষ্টাটা শুরু করতে হবে আপনাকেই, ঘরের মধ্যে থেকেই।
ঘরে সবসময় সবাই বাংলাতে কথা বলার চেষ্টা করুন। তাকেও কেবল বাংলাতেই কথা বলতে দিন। স্কুলে ইংরেজি শিখতে হবে বলে সবসময় ইংরেজিতেই কথা বলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তাই যতক্ষণ তার সামনে আছে চেষ্টা করুন বাংলায় কথা বলতে। ওর সাথে গল্প করুন বাংলায়, তাকে কোনো প্রশ্ন করুন বাংলায়।
ওর জন্য কেবল বিদেশী রূপকথার গল্প নয় আনুন ঠাকুরমার ঝুলি। মজার মজার বাংলার সব ভূতের গল্প দিয়েও মন ভরাতে পারেন ওর। এতে দেশের সংস্কৃতির সাথে ওর পরিচয় ঘটবে। অতীতের মজার মজার গল্পগুলো ওর মন জয় করে নিবে সহজে।
ছড়ার বই বাচ্চারা খুব মজা নিয়ে পড়ে সেটা তাকে দিতে পারেন। আবার ছড়া আবৃতির কোনো ক্যাসেট থাকলে সেটাও নিয়মিত তাকে শোনাতে পারেন।
বাড়িতে সবসময় হিন্দী গান বা ইংরেজি গান না চালিয়ে বাংলা গান চালান। সেটা শুনতে শুনতেও শিশু অনেক কিছু জানবে বাংলা ভাষার।
বাচ্চার ঘরটা বাচ্চাদের বর্ণমালা দিয়ে সাজাতে পারেন। চাইলে দেয়ালে ভালো কোনো চিত্রকর্মও রাখতে পারেন। সেটা ওর মনোজগতে নতুন নতুন প্রশ্নের তৈরি করবে।
এভাবে একটু চেষ্টা করলে সন্তান বাংলা ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হবে নিমেষে। কষ্টকর অতীত মানুষ সবসময় ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ২১ এর এই অতীতই পারে আমাদের ভবিষ্যতের দৃঢ় ভিত তৈরি করে দিতে। তাই সন্তানের মনের জ্বালান অতীতের আলো।

সূত্রঃ এটিএন টাইমস