রাগ কমানোর পাঁচটি সহজ উপায়

‘রাগ’ এই অনুভূতির উপরে অধিকাংশ মানুষেরই নিয়ন্ত্রণ থাকে না। রাগের বসে কত মানুষের সম্পর্ক ভেঙে যায় প্রতি নিয়ত। ক্ষমা পরম ধর্ম হলেও সেই কথা রাগের মাথায় আর মনে থাকে ক’জনের। কথার পৃষ্ঠে বাড়তে থাকে কথা। তর্ক-বিতর্ক। উত্তেজনার বসে রাগে মানুষ এমন কিছুও করে ফেলেন যার জন্য পস্তাতে হয় বাকি জীবনটা। রাগ দুঃখ ভালো লাগা খারাপ লাগা এই অনুভূতি কার কতোটা থাকবে সেটে সহজাত। রাগ কমাও বললেই রাগ কমানো যায় না। তবে রাগের বহিঃপ্রকাশ কি হবে তার ওপর নিয়ন্ত্রন রাখতে পারেন আপনি। তাতেই ধীরে ধীরে কমতে পারে রাগ। দেখে নিন রাগকে কিভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনবেন।
১. চুপ :
কথায় আছে ‘বন্দুকের গুলি’ আর ‘কথা’ এই দুটু একবার বেরিয়ে গেলে তাকে আর ফেরানো যায় না। তাই তর্ক-বিতর্কে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে যখন আপনি নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন মনে করবেন তখনই চুপ করে যান। এমন কোনাে মন্তব্য সেই সময় করার দরকার নেই যা বললে বিপরীত পক্ষ থেকে আরও কথা বাড়তে পারে। কারণ রাগের সময় আপনি নিজে কি বলছেন আপনি মনে রাখবেন না কিন্তু উল্টো দিক থেকে কি শুনছেন তা আপনাকে আরও উত্তেজিত করতে পারে।
২. নিজেকে সময় দিন :
প্রচন্ড রাগ হলে আপনার পক্ষে সেই জায়গা থেকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে থাকাই ভালো। বাড়িতে ঝামেলা হলে আশেপাশে কোথাও একা ঘুরে আসুন। অথবা এমন কিছু করুন যা আপনার ভআলো লাগে। যা আপনাকে অন্যমনষ্ক রাখে।
৩. বিশ্লেষণ :
অশান্তির কারণ বোঝার চেষ্টা করুন। অন্যের উপরে রাগ করার আগে দেখুন আপনার কোনাে দোষ নেই তো! রাগ যে কারণে হচ্ছে সেগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। আপনার রাগের যথেষ্ট কারণ আছে কি না দেখুন। যদি থাকে তা রাগ না করে অন্য কোন উপায়ে শান্তভাবে তার সমাধান করা যায় সেই কথা ভাবুন।
৪. সমস্যা বোঝান :
আপনার রাগের যথেষ্ট কারণ থাকলে তা যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করুন। অনেক সময় রাগে আপনার কথা বলার ধরন বদলে যায়। তাতে সমস্যা বাড়ে। রাগের সময় শান্তভাবে নিজের সমস্যা বোঝানোর চেষ্টা করুন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন। দরকার হলে এমন কোনও জায়গায় গিয়ে কথা বলুন যেখানে আপনি নিজের সমস্যা স্পষ্টভাবে বোঝাতে পারবেন।
৫. সমাধান :
রাগের কারণ এবং তার সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করুন। কি কারণে রাগ হচ্ছে এবং কি করলে তা আর হবে না তার সম্ভাব্য উপায় বিশ্লেষণ করুন। যে পরিস্থিতিতে রাগ হচ্ছে সেই পরিস্থিতি আর যাতে তৈরি না হয় তার জন্য কি করণীয় তা ভবুন। এবং সেই নিয়ে স্পষ্টভাবে আলোচনা করুন।

সূত্র: কলকাতা