শিশুদের যৌন হয়রানি থেকে বাঁচাতে যা করবেন

সকালে পত্রিকার পাতা খুললেই যৌন নির্যাতনের নানা ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে। এমন কোন দিন নেই যে দিনটিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ ঘটনা ঘটছে না। প্রতিনিয়ত এর হার যেন বেড়েই চলছে। এর থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ছোট্ট শিশু থেকে বয়স্ক নারীরাও। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুরাই এই যৌন নিগ্রহের শিকার হয়ে থাকে বেশি। কারণ সারল্যের সুযোগ নিয়ে শিশুদের সহজেই ভোলানো যায়। অনেক সময় শিশুরা বুঝতে পারে না তার সঙ্গে কী ঘটতে যাচ্ছে। আবার কখনও কখনও বুঝতে পারলেও সে কোন প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ করতে পারে না। ফলে ওইসব শিশুর শৈশব মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজেই শিশুদের যৌন হয়রানির হাত থেকে বাঁচাতে এমন কিছু কাজ করুন যাতে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিত হয়।

জেনে নিন শিশুদের যৌন হয়রানির হাত থেকে বাঁচাতে যা করবেন-

সতর্ক হোন
প্রতিদিন বিকৃত যৌন নির্যাতনে শিশুদের শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই শিশুরা তাদের অমানবিক সেই সব অভিজ্ঞতার কথা বুঝে উঠতে পারে না কিংবা বলতে পারে না। ফলে শিশুদের প্রতি যৌনাসক্ত, বিকৃত মানুষগুলোও পার পেয়ে যায়। কাজেই শিশুদের যৌন হয়রানির হাত থেকে বাঁচাতে অভিভাবকরা আগে থেকেই সতর্ক হোন। এ প্রসঙ্গে সমাজবিদরা বলছেন, আগাম সতর্কতার দায়িত্ব নিতে হবে অভিভাবক এবং স্কুলের। শিশুকে দিতে হবে তার প্রাপ্য শৈশব।

শিশুদের যৌন হয়রানি থেকে বাঁচাতে বোঝাবেন শিশুদের
খেলা বা গল্পচ্ছলে শিশুদের এ বিষয়ে একটা ধারণা গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। শিশুদের বলুন, তাদের শরীরটা শুধু তাদের অর্থাৎ কেউ যেন তাদের ‘গোপন’ জায়গায় হাত না দেয়। তাকে বলুন, কোনো আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তির আচরণ অস্বস্তিকর ঠেকলে, কেউ তাদের জোর ঘরে কোনো ঘরে নিয়ে গেলে, খেলার ছলে চুমু দিলে বা শরীরের কোথাও হাত দিলে – তা যেন তারা সঙ্গে সঙ্গেই মা-বাবাকে জানায়।

শিশুদের চিনিয়ে দিন যৌনাঙ্গ
অনেক বাবা-মা নিজ সন্তানের সঙ্গে যৌনাঙ্গ নিয়ে কথা বলতে কুণ্ঠা বোধ করেন। এটা ঠিক নয়। বরং খুব ছোটবেলাতেই ছবি এঁকে অথবা গল্পে-গানে শিশুকে তার শরীরের অন্য সব অঙ্গের মতো যৌনাঙ্গ, লিঙ্গ ইত্যাদি চিনিয়ে দিতে চেষ্টা করুন। এমনটা করলে কেউ যদি তাদের সঙ্গে পিশাচের মতো ব্যবহার করে, তাহলে শিশুরা সহজেই বলতে পারবে কে, কখন, কোথায় হাত দিয়েছিল। এতে শিশুদের রক্ষা করা সহজ হবে।

শিশুদের কথা শুনুন, তার পক্ষ নিন
সবসময় শিশুদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাকে সমর্থন দিন। তাহলে শিশুরা আপনাকে বিশ্বাস করে বন্ধুর মতো সবকিছুই খুলে বলবে। শিশুরা যদি পরিবারের কাউকে বা আপনার কোনো বন্ধুকে হঠাৎ করে এড়িয়ে যেতে শুরু করে অথবা বিকৃত কোন মানুষের কৃতকর্মের কথা আপনাকে খুলে বলে, তাহলে সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটির পক্ষ নিন। আর তিরস্কার করে বাড়ি থেকে বার করে দিন ওই ‘অসুস্থ’ লোকটাকে।

স্কুলেরও দায়িত্ব আছে
শিশুরা দিনের অনেকটা সময় স্কুলে কাটায়। তাই যৌন শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুলের একটা বড় দায়িত্ব থেকে যায়। তবে স্কুলের মধ্যে, বিদ্যালয় চত্বরেও ঘটতে পারে শিশু নির্যাতনের নানা ঘটনা। তাই স্কুল থেকে ফেরার পর বাচ্চা যদি অতিরিক্ত চুপচাপ থাকে, একা একা সময় কাটায় বা পড়াশোনা করতে না চায়, তাহলে ওর সঙ্গে কথা বলুন। জানতে চান কী হয়েছে, প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করুন।

ছেলে-মেয়ে সমান
আমাদের সমাজে ছোট থেকেই মেয়েদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। মেয়ে হলেই হাতে একটা পুতুল আর ছেলে হলে ধরিয়ে দেয়া হয় বল বা খেলনার পিস্তল। এটা না করে বরং ছেলে-মেয়েকে সমান চোখে দেখুন। সেভাবেই তাদের বড় করুন। এমনটা করলে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি শিশুদের যৌন নির্যাতনের হারও কমবে।

তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে