সন্তানকে শাসনের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো ভাবা দরকার

আদরের সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়তে বাবা-মা থাকেন সব সময় উদগ্রীব। কখনো শাসনের মাত্রাটা একটু বেশি করে ফেলেন আবার কখনো অতি আদরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসবই শিশুর ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই সবসময় সন্তানের ভুল না ধরে সংশোধন আনুন নিজের আচরণে। শাসন-বারণ সন্তানের জন্য নয়, নিজেকেই শাসন করুন, সন্তান আপনার মতোই হয়ে গড়ে উঠবে। এজন্য যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে-

অতিরিক্ত শাসন নয়

হয়তো আপনি অতিরিক্ত রাগী। কোনো ধরনের দোষ ত্রুটি নিজে করতে পছন্দ করেন না, অপরেরটাও পছন্দ হয় না। তার প্রভাব বাড়ির শিশুটির ওপর পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ছোট মানুষের আচরণে কিছু সমস্যা থাকবে, তার কাজে ভুল থাকবে, যখন তখন কাজের সময় ঝামেলাও করতে পারে। তাই বলে তাকে অতিরিক্ত শাসন করা ঠিক নয়। সব সময় কড়া শাসনে না রেখে ধৈর্য ধরে বোঝাতে হবে। শিশুটির মনের মধ্যে অযথা ভয় সৃষ্টি না করে সহজে বোঝানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

জটিলতা নয়

বাবা মা যখন নিজেরা ভুল করে ফেলেন, সেটি তারা স্বীকার করতে চান না। কিন্তু কোনো কাজে বাচ্চার সামনে ভুল হলে স্পষ্টভাবে তা স্বীকার করা উচিৎ। তাতে বাচ্চাটি আর জটিলতায় ভুগবে না। তার মনের মধ্যে কোনো প্রকার প্রশ্নের জন্ম দেবে না। বাচ্চাটি সহজ সরল সত্য কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবে ছোট থেকে। সত্যপথে চলার অভ্যাস করতে পারবে আপনাকে দেখে।

স্বাধীনতা দিন

প্রত্যেক মানুষেরই একটি আলাদা জগত আছে। সন্তান আপনার কাছে ছোট হতে পারে, কিন্তু তার নিজস্বতা বলে কিছু থাকবে না এটা ঠিক নয়। তার সব ব্যাপারে যদি আপনি মাথা ঘামান তবে এক সময় সে বিরক্ত হয়ে উঠবে। তাই সব বিষয়ে জোরাজুরি না করে কিছু বিষয়ে তাকে স্বাধীনতা দিন। তবে অবশ্যই ক্লাসের ব্ন্ধুদের সঙ্গে মেশা, পড়াশোনা ইত্যাদি ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিন। যাতে তার মধ্যে রুচির ঘাটতি না থাকে।

তুলনা নয়

সবাইকে সব কিছু পারতে হবে তা কিন্তু নয়। আবার প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য ও প্রতিভা। তাই বিশেষ কোনো কাজে অন্য কারো সঙ্গে নিজ সন্তানকে বার বার তুলনা করতে যাবেন না। এতে সে মনে মনে ছোট হয়ে যাবে এবং আত্মবিশ্বাস কমতে থাকবে। একটা সময় গিয়ে এটি তার মানসিক রোগেও পরিণত হতে পারে। তাই আপনার সন্তানের ভুলগুলো ধরিয়ে দিন স্বাভাবিকভাবে।

বন্ধুত্বপূর্ণ হোন

অনেক বাবা মা সন্তানের সঙ্গে গম্ভীর হয়ে থাকেন। তাদের গম্ভীরতার কারণে সন্তান ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকে। তাই গম্ভীর না থেকে সন্তানের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। এতে সে তার ব্যক্তিগত সমস্যার কথা আপনাকে খুলে বলতে পারবে। আপনার অভিজ্ঞতা আর জ্ঞানের আলোকে তাকে সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারবেন।

ছোটখাটো কিছু ব্যাপার মেনে চললে আপনিও হতে পারেন একজন ভালো বাবা কিংবা মা। আপনার সংশোধিত আচরণ সন্তানকে দিতে পারে সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ।